যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গের এক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বৈঠকে ভারতের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্টের অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তান। সে দেশের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের এই বৈঠকে দুপক্ষই পারস্পারিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন। বৈঠকে আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে ইসলামাবাদের ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব ওয়েলস-এর কাছে অভিযোগ করেন, ভারত অব্যাহতভাবে অস্ত্রবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পাকিস্তান অবশ্য আধুনিক সভ্য সমাজের রীতি মেনে আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান খোঁজার পক্ষে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধি আফগানিস্তানের বিষয়ে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের অগ্রগতি সম্পর্কে তারা দুজনই আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রস্তাবটিকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে দু দেশেরই কাজ করা উচিত।। পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ওয়েলস বলেছেন, আফগানিস্তানসহ ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশকেই একসাথে কাজ করতে হবে। উভয় পক্ষই সকল বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পর্ক রেখে চলার বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো এবং পাকিস্তানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও বেশি শক্তিশালী করার বিষয় একমত পোষণ করে দেশ দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কাজ করা সবগুলো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবেন তারা।
এর আগে ওয়েলস পাকিস্তানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যান এবং সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব ছাড়াও আরও কয়েকজন পাকিস্তানী কর্মকর্তার সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি আগেই জানানো হয়েছিল, তিনি ওই সফরে আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের সঙ্গে দেখা করতে ওয়েলসের করাচি যাওয়ার কথা রয়েছে। গত ১১ মার্চে আশরাফ ঘানির সঙ্গে আফগান তালেবানের আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহায়তার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের প্রণোদনা আফগান তালেবানকে আশরাফ ঘানির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে উৎসাহিত করবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের জন্য বরাদ্দকৃত সাড়ে ২২ কোটি (২২৫ মিলিয়ন) ডলার আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের শুরুতে । তাছাড়া ইসলামাবাদকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে পাকিস্তানের দূত মালিহা লোধি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মর্ম বুঝতে না পারলে দেশটির সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান। উত্তেজনা প্রশমনে পরে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিতের পরও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি দেশটির। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস দাবি করেছিলেন, একসঙ্গেই কাজ করছে দুই দেশ। পাকিস্তান মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ের নীতির পক্ষে ভূমিকা নিলেই স্থগিতকৃত সহায়তা আবারও চালু করা হবে।