ইন্দোনেশিয়ার লোমবোক দ্বীপে ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১০

ইন্দোনেশিয়ায় পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় দ্বীপ লোমবোকে আঘাত হানা ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বিবৃতির বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিহতের সংখ্যার কথা জানিয়েছে। এর আগে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, এই ভূমিকম্পটি ছিল ৬ দশমিক ৪ মাত্রার।

_102744130_hi048399087

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সুটোপো পুরয়ো নুগ্রহো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন আরও ৪০ জনের মতো। বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ এখনও সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি।

মুখপাত্র আরও জানান, এখন মূল মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে মানুষদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া ও উদ্ধারে। অনেক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে মুখপাত্র কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছেন তাতে দেখা যায় ভবন ও সড়কে ধ্বংস্তূপ রয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভূমিকম্পের পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ছুটোছুটি শুরু হয়। তিনি বলেন, ভূমিকম্প খুব শক্তিশালী ছিল। আমাদের বাড়ির সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমরা সবাই বাইরে ছুটে যাই। আমাদের প্রতিবেশী সবাই ঘর থেকে বাইরে আসে। এসময় হঠাৎ করে বিদ্যুৎও চলে যায়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিলো দ্বীপটির মূল শহর মাতারাম থেকে ৮০ মাইল উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সেখানে এই মাত্রার ভূমিকম্পকে খুবই শক্তিশালী বিবেচনা করা হয়। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

তবে এই ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায় না। ইউরোপীয় ভূমিকম্প সংস্থা ইউরোপ-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিকাল সেন্টার জানায়, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৬.৫।

এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে একইমাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছিল। ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প বা সুনামির আঘাত নতুন নয়। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের মধ্যে দেশটির অবস্থান। ২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ৯ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানে। এতে নিহত হন কয়েক হাজার মানুষ। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতেও ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে।