ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি

মঙ্গলবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন নাজিব রাজাক

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে ওয়ানএমডিবি আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলার বিচার মঙ্গলবার শুরু হতে যাচ্ছে। এই মামলায় ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাড (ওয়ানএমডিবি) তহবিল থেকে সাড়ে চারশো কোটি ডলার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নাজিবের জোটের নির্বাচনি পরাজয়ে এই কেলেঙ্কারির ভূমিকা রয়েছে। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার এখবর জানিয়েছে।

najib-sad

২০০৯ সালে মালয়েশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য ওয়ান মালয়েশিয়া ডেপেলপমেন্ট বেরহাদ বা ওয়ান এমডিবি তহবিলটি গঠন করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। নাজিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ আত্মসাৎ করে তিনি নিজ ব্যাংক হিসাবে জমা করেছেন। নাজিবের শাসনামলে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও এ তহবিল সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশ তার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকে। নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,ক্ষমতায় এলে নাজিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করা হবে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর নাজিবের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়। একদিন পর তিনি জামিন লাভ করেন।

ওয়ানএমডিবি দুর্নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ ছয়টি দেশে তদন্ত চলছে। সিঙ্গাপুর ওয়ানএমডিবি তহবিলের ১ কোটি ১১ লাখ ডলার মালয়েশিয়াকে ফেরত দিয়েছে। ২৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি রণতরীও ফেরত পেয়েছে মালয়েশিয়া। 

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিচারের  মূলকেন্দ্রে থাকলে ১এমডিবির পুরনো শাখা এসআরসি ইন্টারন্যাশনালে ৪২ মিলিয়ন রিঙ্গিত পাচারের অভিযোগ। এতে তিনটি অর্থপাচারের অভিযোগ আছে।

সরকারি তদন্ত কমিটির সদস্য সিনথিয়া গ্যাব্রিয়েল বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। যদিও তা অনেক দেরিতে আসছে। অতীতের কেলেঙ্কারির ঘটনা শনাক্ত ও সমাধান করা নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

নাজিব রাজাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বেআইনি কিছু তিনি করেননি। সরকার প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

নাজিবের প্রধান আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আব্দুল্লাহ আসন্ন বিচারকে রাজনৈতিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, যদি আমাকে একজন ন্যায়পরায়ণ বিচারক ও বিচার ব্যবস্থা এবং নির্দেশনা না পাওয়া স্বাক্ষী দেওয়া হয় তাহলে আমি নিশ্চিতভাবেই মামলায় জিতব।

মামলার বিচার কার্যক্রম মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে। প্রসিকিউটররা কয়েক ডজন স্বাক্ষীকে জেরা করবেন।

দুর্নীতি অভিযোগ মাথায় নিয়ে ক্ষমতা ছাড়লেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন নাজিব।