টানা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জের ধরে জন সমাবেশে মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে হংকং সরকার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’র অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্নমতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থী শাসক ক্যারি ল্যাম। তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি।
খবরে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা ঔপনিবেশ আমলের একটি জরুরি আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের জন্য এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত ৫০ বছরে এই আইন কখনও প্রয়োগ করা হয়নি। সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে হংকংয়ের বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন ও ভিন্নমতালম্বীরা বিপদে পড়তে পারেন।
হংকংয়ে চলমান এই বিক্ষোভ শুরু হয় জুন মাসে। অপরাধীদের মূল চীন ভূখণ্ডে প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত এই খসড়া আইনের বিরোধিতায় এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার মুখোশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এই আইন প্রয়োগের ফলে হংকংয়ের নেতা ক্যারি ল্যাম ‘জনগণের স্বার্থে ’ যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সর্বশেষ ১৯৬৭ সালে সহিংসতা দমনে এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। আইনটির বলে সরকার গ্রেফতার, প্রকাশনা নিষিদ্ধ ও তল্লাশি চালানোর এখতিয়ার পায়।