বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় দেশগুলোর জোট বিমসটেকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সভায় মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী জান্তা সরকারকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আগামী ১ এপ্রিল এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সভায় বাংলাদেশসহ বাকি সদস্য রাষ্ট্রগুলোও আমন্ত্রণ পেয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বঙ্গোপসাগর উপকূলের সঙ্গে সীমান্ত থাকা বাংলাদেশ,ভারত,নেপাল,ভুটান,থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা বিমসটেক জোটের সদস্য। দক্ষিণ এশিয়ার দুইটি আঞ্চলিক জোট সার্ক ও বিমসটেক। তবে বিমসটেক জোটকে দেখা হয় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গে সংযোগকারী সংস্থা হিসেবে। বিমসটেক জোটের দুই দেশ আসিয়ানেরও সদস্য।
পাকিস্তান থাকার কারণে বিমসটেক জোটকেই বেশি সক্রিয় দেখতে আগ্রহী ভারত। ফলে ২০১৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে বিমসটেক রাষ্ট্রগুলোর নেতারা যোগ দেন। আর এবারে বিমসটেকের সভায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানালো শ্রীলঙ্কা।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ উয়ান্না মং আইউনকে বিমসটেক সভায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে কলম্বো। তবে এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের সেনা সরকারকে বৈধতা দিচ্ছে বিমসটেক।
এই বছরে আরও পরের দিকে বিমসটেক জোটের নেতাদের সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে শ্রীলঙ্কার। ২০১৮ সালে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমসটেক’র চতুর্থ সম্মেলন আয়োজিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। ক্ষমতা দখলকারী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েকটি প্রতিবেশি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেও এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে কোনো ধরনের স্বীকৃতি পায়নি এই জান্তা সরকার।