সরকার গঠন কেন পিছিয়ে দিলো তালেবান?

৪ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা থেকে সরে এসেছে তালেবান। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় এ প্রক্রিয়া স্থগিত করলো দলটি। এদিন দলের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে নতুন সরকারের ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে দফায় দফায় বিষয়টি স্থগিত করা বা পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে কোনও ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার তৈরি করতে চাইছে তালেবান। আর সেটি করতে গিয়েই বেগ পেতে হচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারকদের।

অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি প্রশাসন তৈরিতে তালেবানের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন খলিল হাক্কানি। তার বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই জানিয়েছে, তালেবানের এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা থাকলেও নতুন প্রশাসনে সব পক্ষ ও গোষ্ঠীর অন্তুর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চায় তারা। এর অংশ হিসেবে নতুন সরকারে থাকতে পারেন হিজব-ই-ইসলামি দলের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার।। এছাড়া সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির ভাই হাশমত গণিও মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন।

তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অবশ্য ভিন্ন কথা বলেছেন গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। ওই সাক্ষাৎকারে তালেবানকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়ার কথা বললেও দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারে অংশ নিতে নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার বলেন, ‘তালেবান আমাদের ভাই এবং আমাদের মধ্য মিল রয়েছে। হিজব-ই-ইসলামি নতুন সরকারের অংশীদার হতে না চাইলেও তালেবান প্রশাসনকে নিঃশর্ত সমর্থন দেবে। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়েই য্নে নতুন প্রশাসন গঠিত হয়।’

তালেবান সরাসরি স্বীকার না করলেও দৃশ্যত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বিলম্বের কারণেই সরকার গঠনের তারিখ পেছাতে হচ্ছে দলটিকে।