ভারতের কাছে আরও ১০০ কোটি ডলার ঋণ চাইলো শ্রীলঙ্কা

কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা ভারতের কাছে আরও ১০০ কোটি ডলার ঋণ (ক্রেডিট লাইন) চেয়েছে। জরুরি আমদানি ব্যয় নির্বাহের জন্য এই ঋণ চেয়েছে দ্বীপ দেশটি। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে লঙ্কান সরকারের আলোচনার আগে দুটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

জরুরি খাদ্য ও জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটির বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৭০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে কলম্বো বাধ্য হয়েছে মুদ্রার মূল্য কমাতে এবং বৈশ্বিক ঋণদাতাদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, নয়া দিল্লি ইঙ্গিত দিয়েছে, নতুন ঋণের অনুরোধে তারা সাড়া দেবে। চাল, ময়দা, ডাল, চিনি ও ওষুধ আমদানিতে এই ঋণ কাজে লাগানো হবে।

দ্বিতীয় সূত্র জানায়, জরুরি আমদানির জন্য ভারতের কাছে ১০০ কোটি ডলার ক্রেডিট লাইন চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ইতোমধ্যে ভারতের প্রতিশ্রুত ১০০ কোটি ডলারের সঙ্গে এটি অতিরিক্ত ঋণের অনুরোধ।

এই বিষয়ে শ্রীলঙ্কার অর্থ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানা যায়নি।

এই মাসের শুরুতে লঙ্কান অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসা নয়া দিল্লিতে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

সোমবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কা শ্রীলঙ্কার কলম্বো পৌঁছে রাজাপাকসার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। টুইটারে তিনি জানান, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভারতের সহযোগিতা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ক্রেডিট লাইন ছাড়াও এই বছরের শুরুতে ভারত ৪০ কোটি ডলার মুদ্রা বিনিময় এবং জ্বালানি কেনার জন্য ৫০ কোটি ডলার ক্রেডিট লাইন দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ২৩১ কোটি ডলারে নেমে আসলে আমদানি থমকে যায়। এতে করে অনেক জরুরি পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। ভারতের প্রতিবেশী দেশটিকে বছরের বাকি সময়ে ৪০০ কোটি ডলার ঋণ শোধ করতে হবে। এর মধ্যে জুলাই মাসে শোধ করতে আন্তর্জাতিক সোভেরিন বন্ডের ১০০ কোটি ডলার।

আগামী মাসে রাজাপাকসা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহযোগিতার জন্য আলোচনা করবেন।

একটি সূত্র মতে, আইএমএফ-এর সহযোগিতার যে সিদ্ধান্ত শ্রীলঙ্কা নিয়েছে তা সমর্থন করছে ভারত।