মিয়ানমারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমারে সরকারি সফর করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। দেশটির রাজধানী নেপিদোতে পৌঁছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইট বার্তায় লিখেছেন, তিনি মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্না মং এবং অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার মিয়ানমারে সফর শুরু করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মস্কো জানিয়েছে, এই সফরে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর ক্ষমতা দখল করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই সামরিক সরকারের বড় সমর্থক রাশিয়া।

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন জেনারেলদের একঘরে করে রেখেছে পশ্চিমা দেশগুলো। তাদের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পশ্চিমারা বলছে, বিরোধীদের ওপর সহিংস নিপীড়ন চালাচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার।

মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো সফর শুরু করেছেন সের্গেই ল্যাভরভ। এই সপ্তাহে কম্বোডিয়ায় আয়োজিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। তার আগে তিনি মিয়ানমার সফর করছেন।

গত বছর সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে এবং এর সামরিক বাহিনী নিয়মিত সশস্ত্র গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধা, তাদের সমর্থক এবং জাতিগত সংখ্যালঘু যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এসব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই করে আসছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে।

মিয়ানমারের শীর্ষ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ রাশিয়া। অন্য অনেক দেশই মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তা উপেক্ষা করে আসছে মস্কো। মিয়ানমারের জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিয়ন্ত্রিত বহু এলাকায় হামলা চালাতে ব্যবহার হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি করা যুদ্ধবিমান।

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনীর প্রধান মিত্র রাশিয়া এবং চীন যৌথভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হিসেবে তাদের ভেটো ক্ষমতার কারণে সমন্বিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে।

মিয়ানমারের শান্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় জেনারেলদের ব্যর্থতা এই সপ্তাহের আসিয়ান বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আসিয়ানের শীর্ষ ১০ সদস্যের একটি মিয়ানমার। তারপরেও তারা সংকট নিরসনে আসিয়ানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা বলেছেন, সের্গেই ল্যাভরভের সফরের সময় উভয় পক্ষ রাশিয়া-মিয়ানমার সম্পর্কের সব ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করবে। রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মানবিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

ক্ষমতা দখলের পর থেকে দুইবার রাশিয়া সফর করেছেন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। এছাড়া উভয় দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রতিনিধি দলের বিনিময় হয়েছে।

সূত্র: এপি