পুরুষদের আত্মহত্যার জন্য নারীদের দায়ী করে বিতর্কে দ. কোরীয় রাজনীতিক

দক্ষিণ কোরিয়ার এক রাজনীতিক পুরুষদের আত্মহত্যা বৃদ্ধির জন্য সমাজে নারীদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে দোষারোপ করে বিতর্কের মুখে পড়েছেন। নারীদের প্রতি এ ধরনের অসংগত ও বিপজ্জনক মন্তব্য করার জন্য তার সমালোচনা করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। 

এক প্রতিবেদনে সিউল সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর কিম কি-ডুক দাবি করেছেন, বিগত বছরগুলোতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের জন্য কাজ পাওয়া এবং বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি দাবি করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া সম্প্রতি একটি নারীবাদী সমাজে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছে এবং এটিই পুরুষদের আত্মহত্যার প্রচেষ্টা বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আত্মহত্যার হারের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটির লিঙ্গ সমতা পরিস্থিতির সূচক নিচের দিকে রয়েছে।

কাউন্সিলর কিমের মন্তব্যকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ করে নারীদের প্রতি অসংগত ও ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সং ইন হান বিবিসিকে বলেছেন, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া এমন দাবি করা বিপজ্জনক এবং মূর্খতা। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশ্বব্যাপী পুরুষরা নারীদের তুলনায় বেশী আত্মহত্যা করে এবং এধর‌নের মন্তব্য লিঙ্গ সংঘাতকে বাড়িয়ে দেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় পূর্ণকালীন চাকরিতে পুরুষদের তুলনায় নারীদের সংখ্যা কম। নারীদের বেশিরভাগই অস্থায়ী বা খণ্ডকালীন চাকরি করেন। লিঙ্গ বৈষম্য ধীরে ধীরে কমছে। কিন্তু নারীরা এখনও পুরুষদের তুলনায় গড়ে ২৯ শতাংশ কম বেতন পায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি নারীবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। এক দল যুবকের দাবি, নারীদের জীবনের উন্নতির প্রচেষ্টা তাদের জন্য প্রতিকূল হয়েছে। কাউন্সিলর কিমের প্রতিবেদনে এসব দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।

বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে কাউন্সিলর কিম জানান, নারীবাদী সমাজের সমালোচনা করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। বরং তিনি ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে ২০ শতাংশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলরদের মধ্যে ২৯ শতাংশ নারী।

এধর‌নের মন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ায় নারীবিদ্বেষ কতটা প্রচলিত তা তুলে ধরছে। নারী অধিকারকর্মী ইউরি কিম বলেছেন, কাজের জায়গায় নারীদের দোষারোপ করা আমাদের সমাজের ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘায়িত করবে।