ভারতে হিউম্যান মেটাপনিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) সংক্রমণের প্রথম তিনটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে ৩ মাস বয়সী এক শিশুকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৮ মাস বয়সী আরেক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহমেদাবাদে ২ মাস বয়সী এক শিশুর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের কোনও সাম্প্রতিক ভ্রমণ ইতিহাস নেই। ফলে অন্য অঞ্চল বা বিদেশে সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেঙ্গালুরুর দুটি ঘটনা ভারতের মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (আইসিএমআর) পরিচালিত নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এইচএমপিভি ইতোমধ্যে বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে।
আহমেদাবাদের শিশুটি আগে ভেন্টিলেটরে ছিল, তবে বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল। আহমেদাবাদ পৌর কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভবিন সোলাঙ্কি জানান, ২৬ ডিসেম্বর শিশুটির মধ্যে এইচএমপিভি শনাক্ত হয়, তবে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দেরিতে তথ্য পাওয়ায় আমরা আজ (সোমবার) এ বিষয়ে জানতে পারি।
এইচএমপিভি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সোমবার একটি বৈঠক ডেকেছে।
এইচএমপিভি: কীভাবে প্রভাবিত করে?
এইচএমপিভি একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা সাধারণত সর্দি-কাশির মতো হালকা উপসর্গ সৃষ্টি করে। তবে এটি নবজাতক, বয়স্ক ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে জটিলতার কারণ হতে পারে। এটি কখনও কখনও নিউমোনিয়া বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ বৃদ্ধি করতে পারে। শীত ও বসন্তের শুরুতে সাধারণত এই ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়।
চীনে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার এইচএমপিভি এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস পর্যবেক্ষণ জোরদার করেছে। ৪ জানুয়ারি একটি যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটির (জেএমজি) বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি), আইসিএমআর ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সরকার জানিয়েছে, ভারতে বর্তমানে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির নজির পাওয়া যায়নি। তবে, এইচএমপিভি পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য পরীক্ষাগার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আইসিএমআর সারা বছর এইচএমপিভি এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রবণতা নজরে রাখবে।
হাসপাতালগুলোকে সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য পৃথকীকরণ প্রটোকল শক্তিশালী করতে, প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুদ রাখতে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় অসুস্থতা (আইএলআই) এবং গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের (সারি) ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।