এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনা: একজনের কফিনে মিললো ‘অন্যজনের দেহাবশেষ’

ভারতের আহমেদাবাদে জুনের শুরুর দিকে টেক-অফের পরপরই বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ২৬০ জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এবার এক ভয়াবহ বিভ্রাটের খবর সামনে এসেছে। নিহতদের দেহাবশেষ শনাক্তকরণ ও হস্তান্তরে মারাত্মক ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিমান দুর্ঘটনায় নিহত এক নারীর ছেলের দাবি, যুক্তরাজ্যে তার মায়ের কফিন আসার পর তাতে ‘অন্য কারো দেহাবশেষ’ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিহত শোভনা প্যাটেলের ছেলে মিতেন প্যাটেল জানান, তার বাবাও ১২ জুনের ওই দুর্ঘটনায় মারা যান।  যুক্তরাজ্যে পাঠানো তার মায়ের দেহাবশেষের কফিনে অন্য কারও দেহাবশেষও ছিল।

এই ঘটনায় মিতেন প্রশ্ন তুলেছেন, আর কতজনের দেহাবশেষ এভাবে মিশ্রিত অবস্থায় পাঠানো হয়েছে?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল দাবি করেছে, নিহতদের মৃতদেহ শনাক্তে গলদ হয়েছে এবং ভুল দেহাবশেষ প্রিয়জনদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এক কফিনে একাধিক ব্যক্তির দেহাবশেষ পাওয়া গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুর্ঘটনার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই শনাক্তকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃতদেহগুলো সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং মর্যাদার সঙ্গে হস্তান্তর করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

মিতেন বলেন, এটা অবশ্যই খুব বেদনাদায়ক। আমি জানি চাপ ছিল, মানুষ ক্লান্ত ছিল, কিন্তু এতে দায়িত্বের প্রশ্ন থেকেই যায়। আপনি যখন মৃতদেহ পাঠাচ্ছেন, নিশ্চিত করতে হবে এটি সঠিক দেহ।

তিনি আরও বলেন, এখন আমি নিশ্চিত না, আমার মায়ের কফিনে আর কারও দেহাবশেষ আছে কি না।

ডেইলি মেইল জানায়, এক পরিবার পুরোপুরি ভুল দেহ পেয়েছে। আরেক কফিনে একাধিক ব্যক্তির দেহাবশেষ ছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমরা সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করছি। কোনও উদ্বেগ থাকলে তা সমাধানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আহমেদাবাদ বিমানবন্দরে বিমান দুর্ঘটনার পরপরই নিহতদের শনাক্ত ও দেহ হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়। তবে দুর্ঘটনায় দেহাবশেষগুলো মারাত্মকভাবে বিকৃত হওয়ায় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে।