ইসলামাবাদে জুমার নামাজে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩১

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। তরলাই এলাকার খাদিজা আল-কুবরা ইমামবারগাহে ঘটা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৬৯ জন। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের একজন মুখপাত্র হতাহতের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইসলামাবাদ পুলিশের মুখপাত্র তাকি জাওয়াদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী এটি একটি আত্মঘাতী হামলা বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ইসলামাবাদ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) সৈয়দ আলী নাসির রিজভীর এক কাজিন রয়েছেন। এছাড়া আইজিপির আরও এক আত্মীয় এই হামলায় আহত হয়েছেন।

বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পলি ক্লিনিক, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিমস) এবং সিডিএ হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের রক্ত দেওয়ার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ জানিয়েছেন, প্রাদেশিক সরকার থেকে ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স ইসলামাবাদে পাঠানো হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির সব হাসপাতালে হাই অ্যালার্ট জারি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মির্জিইয়োয়েভের পাকিস্তান সফরের মধ্যেই এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটলো। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উপ-প্রধানমন্ত্রী ইছহাক দার একে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমরি মোগাদাম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

সিনেটের বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস এই ঘটনাকে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অবিলম্বে রক্তদানের জন্য যুবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর ইসলামাবাদের একটি আদালত ভবনের বাইরে আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার তিন মাস কাটতে না কাটতেই আবারও বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠলো পাকিস্তানের রাজধানী।