র‍্যাপার থেকে প্রধানমন্ত্রী

নেপালের কনিষ্ঠ সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নিলেন বালেন শাহ

ঐতিহাসিক এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ। শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ভবনে এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

গত ৫ মার্চের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহের তিন বছরের পুরনো দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২৭৫ সদস্যের পার্লামেন্টে ১৮২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। দুর্নীতিবিরোধী এবং তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর এটিই ছিল নেপালের প্রথম নির্বাচন।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বালেন্দ্র শাহ তার নিজস্ব স্টাইল বজায় রেখেছিলেন। কালো ট্রাউজার, ম্যাচিং জ্যাকেট এবং সিগনেচার কালো নেপালি টুপি ও সানগ্লাস পরে তিনি শপথ নিতে আসেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশটির দক্ষিণ সমতলীয় অঞ্চলের বাসিন্দা বা প্রথম ‘মাধেসি’ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হিমালয় কন্যা নেপালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শপথ নেওয়ার ঠিক এক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি র‍্যাপ গান প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ের পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য বার্তা দেন বালেন শাহ। ‘জয় মহাকালী’ শিরোনামের সেই গানে তিনি গেয়েছেন, “নেপাল এবার ভয় পায় না, হৃদয় লাল রক্তে টইটম্বুর... এবার প্রতিটি ঘরে ঘরে হাসি ও সুখ পৌঁছে যাবে।”

ইউটিউবে প্রকাশের পর গানটি প্রায় ৩০ লাখ বার দেখা হয়েছে। গানে তিনি আরও বলেন, “ঐক্যের শক্তিই আমার জাতীয় শক্তি।” যদিও তিনি সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে অংশ নেননি, তবে জেন-জি বিক্ষোভকারীদের প্রতি শুরু থেকেই তার জোরালো সমর্থন ছিল।

নেপালের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৯০ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৩২টি সরকার দায়িত্ব নিলেও কোনোটিই পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। এবারের নির্বাচনে নেপালের সবচেয়ে পুরনো দল নেপালি কংগ্রেস মাত্র ৩৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া কেপি শর্মা অলির দল সিপিএন-ইউএমএল পেয়েছে ২৫টি আসন।

দেশটির ৩ কোটি মানুষের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ কাজের সন্ধানে দেশ ছাড়ছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের ওপর পাহাড়সম প্রত্যাশা রয়েছে সাধারণ মানুষের।

এদিকে বালেন্দ্র শাহের শপথ গ্রহণের পর চীন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নেপালের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের এই হিমালয় প্রতিবেশীকে সব ধরনের সমর্থন দেবে।