ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে বর্তমানে ৬০ দিনের এক আলোচনা চলছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান পর্দার আড়ালে এক অপরিহার্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু ভঙ্গুর অর্থনীতির এই দেশটির আসলে কী লাভ হচ্ছে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তার দূরদর্শিতা এবং সামরিক নেতৃত্ব ছাড়া আমরা আজ এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা কেবল সীমিত কিছু অর্থনৈতিক লাভ এনে দিতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধকালীন বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার কারণে জ্বালানি আমদানি খরচ কমতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বজায় থাকলে ঝুলে থাকা ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইনে নতুন গতি আসতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার-এর লাহোরভিত্তিক অর্থনীতিবিদ হিনা শেখ বলেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাগুলো ভূ-রাজনীতির ফলাফল নয় এবং কূটনৈতিক মর্যাদা দিয়ে এর সমাধানও সম্ভব নয়। তবে এতে কোনও সন্দেহ নেই যে এই সদিচ্ছা ইসলামাবাদকে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সুযোগ দেবে, যা তারা সংস্কারের গতি বাড়াতে ব্যবহার করতে পারে।
পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের বড় অংশ মনে করছেন, আসল পুরস্কার নিহিত রয়েছে আঞ্চলিক সুফলের মধ্যে। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলে বেলুচিস্তান সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিনের স্থবির বাণিজ্য প্রবাহ আবার চালু হতে পারে। তবে এই কূটনীতির সুফল নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ভিন্ন সুরও রয়েছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, এই কূটনৈতিক সাফল্যের আসল পরীক্ষা হবে এর অর্থনৈতিক লাভ দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও দুই দশক ধরে সশস্ত্র সংঘাতকবলিত অঞ্চল বেলুচিস্তানে পৌঁছায় কিনা।
তিনি মন্তব্য করেন, যদি অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো বেলুচিস্তানের জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, তবেই সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ নির্মূল করা সম্ভব। আমরা এক বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যদিও অতীতে আমরা এমন বহু সুযোগ হাতছাড়া করেছি।
সূত্র: আল জাজিরা