এবার কি ট্রাম্পের রোষানলে পড়ছে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ জুন ২০২৬, ১৭:৫১আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৭:৫১

ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রবিবারের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক মন্তব্য দেখে যা কেবল সাধারণ এক বৈরিতা মনে হয়েছিল, তা এখন দুই মহাদেশের ঐতিহাসিক ‘ট্রান্স-আটলান্টিক’ সম্পর্কে বড় ধরনের ওলটপালটের রূপ নিতে যাচ্ছে।

ইরান যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ইউরোপের অনীহা ও অনিচ্ছাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন, ইউরোপের প্রতিরক্ষার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের কেন বহন করা উচিত? এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পটভূমিতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর এটিকে ন্যাটো জোটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সাক্ষাৎ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। রুটকে ট্রাম্পের মন জুগিয়ে চলার ও তোষামোদের বিদ্যায় পারদর্শী মনে করা হলেও, এবারের এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে বেশ বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।

গত সপ্তাহের শেষের দিকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ কর্মকর্তারা আমেরিকার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রদের রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জি-৭ সম্মেলনে তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য ‘মিনতি’ করেছিলেন। একসময় ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে আখ্যা দেন। এর ফলে দুজনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কদর্য বাকযুদ্ধ শুরু হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগেই ট্রাম্প সেই খবর ফাঁস করে দেন। ট্রাম্পের এমন আচরণকে ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট পেস্টন ‘ট্রাম্পের নিজস্ব মানদণ্ডেও চরম মাত্রার’ বলে অভিহিত করেছেন।

একই সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এক সভায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোন কোন ইউরোপীয় দেশ ন্যাটোর তহবিলে তাদের ন্যায্য ভাগ দিচ্ছে না, তা নির্ধারণ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ছয় মাস ধরে একটি জরিপ চালাবে। আর যেসব দেশ অর্থ দিচ্ছে না, সেসব জায়গা থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া হবে।

দ্য অ্যাক্সিওস শো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্ক কাপুটোকে ট্রাম্প যখন মিত্র দেশগুলোর নেতাদের নিয়ে উপহাস করছিলেন, ঠিক তখনই তিনি চীনের শি জিনপিংকে ‘খুবই বুদ্ধিমান মানুষ’, ভারতের নরেন্দ্র মোদিকে ‘একজন মহান নেতা’ এবং রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনকে জি-৮ থেকে বের করে দেওয়া উচিত হয়নি বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন। তার এসব মন্তব্যকে কঠোর শাসকদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। ট্রাম্পের এই বৈপরীত্য ছিল চোখে পড়ার মতো; যেখানে তিনি মিত্রদের হেয় করছেন, সেখানে অন্য পক্ষের বুদ্ধিমত্তা ও নেতৃত্বের গুণগান গাইছেন।

ট্রাম্প বা তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছ থেকে এমন বক্তব্য আসা অবশ্য নতুন কিছু নয়; তাদের প্রথম মেয়াদ থেকেই তারা এ ধরনের কথা বলে আসছেন। তবে এবার নতুন যে বিষয়টি যুক্ত হয়েছে, তা হলো, ইরান যুদ্ধে সমর্থন দিতে ইউরোপের প্রধান দেশগুলোর অস্বীকৃতি এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র ক্ষোভ।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, তিনি (মেলোনি) আমাদের ইতালির রানওয়ে পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেননি, যা বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি করেছে। অথচ এই ইতালি এবং ন্যাটোর অন্যান্য ‘তথাকথিত’ মিত্রদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করে থাকে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ (যারা আংশিকভাবে নরম হয়েছিল) ইউরোপের একগুচ্ছ দেশের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ এনেছেন।

হেগসেথ বলেন, ‘ন্যাটো হবে একটি দ্বিমুখী পথ’। অন্যদিকে গত মে মাসে রুবিও প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘স্পেনের মতো দেশ যখন আমাদের এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করতে দেয় না, তখন আপনারা কেন ন্যাটোতে আছেন?’

খোদ ট্রাম্প গত এপ্রিলে দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধে সহায়তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ প্রত্যাহার বা বের হয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি সবসময়ই জানতাম যে ন্যাটো একটি ঠুঁটো জগন্নাথ, আর পুতিনও অবশ্য সেটা ভালো করেই জানেন।’

সূত্র: অ্যাক্সিওস

/এএ/
সম্পর্কিত
ইরান পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলার আসবে কোথা থেকে
রেকর্ডভাঙা দাবদাহে ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, তাপমাত্রা ছাড়াতে পারে ৪৩ ডিগ্রি
স্টুডেন্ট ভিসায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র
সর্বশেষ খবর
‘আওয়ামী লীগের আছে,  বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’ 
‘আওয়ামী লীগের আছে, বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার জায়গা নেই’ 
পুশইন-পুশব্যাক: সীমান্তে মানবাধিকার কোথায়
পুশইন-পুশব্যাক: সীমান্তে মানবাধিকার কোথায়
খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে একজন নিহত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
খাগড়াছড়িতে সেনা অভিযানে একজন নিহত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদার দিয়ে ৭০ কোটি টাকায় হল নির্মাণ, উদ্বোধনের আগেই ফাটল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়‘বালিশকাণ্ডের’ ঠিকাদার দিয়ে ৭০ কোটি টাকায় হল নির্মাণ, উদ্বোধনের আগেই ফাটল
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ জানেন না অনেকেই, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান