কোন বিরল রোগে মারা গেলেন আফগান ক্রিকেটার শাপুর জাদরান

আফগানিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান আর নেই। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। হিমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস (এইচএলএইচ) নামের একটি বিরল ও মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগে ভুগছিলেন তিনি। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

শাপুরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এসিবি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, শাপুর জাদরান ছিলেন আফগান ক্রিকেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী ব্যক্তিত্বদের একজন। তার নিষ্ঠা, আবেগ এবং অবিচল প্রতিশ্রুতি আমাদের দেশে ক্রিকেটের উত্থান ও উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তিনি ছিলেন সেই গর্বিত ক্রিকেটারদের অন্যতম, যারা আফগানিস্তানের প্রাথমিক ক্রিকেটযাত্রার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে আসার পথ তৈরি করেছিলেন।

কী এই এইচএলএইচ রোগ?

এটি এমন একটি বিরল ও গুরুতর রোগ, যাতে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার পরিবর্তে এই রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা উল্টো নিজের সুস্থ কোষ এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এর ফলে শরীরে তীব্র প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা লিভার, প্লীহা, অস্থিমজ্জা ও মস্তিষ্কসহ শরীরের অন্যান্য অংশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এই রোগ প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইচএলএইচ প্রধানত দুই প্রকারের হয়। প্রথমটি বংশগত, যা বাবা-মায়ের জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে আসে। অন্যটি অর্জিত, যা সাধারণত তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রমণ (যেমন: ইপস্টাইন-বার ভাইরাস), অটোইমিউন রোগ (যেমন: লুপাস), রক্তে ক্যানসার (যেমন: লিউকেমিয়া) কিংবা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে।

এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- টানা উচ্চ জ্বর, চরম ক্লান্তি ও দুর্বলতা, লিভার ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, শরীরে র‍্যাশ বা চামড়ায় ক্ষত, রক্তশূন্যতা এবং জন্ডিস। মারাত্মক ক্ষেত্রে হড়বড়িয়ে কথা বলা বা খিঁচুনিও হতে পারে। কোনও একক পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ শনাক্ত করা যায় না বিধায় এটি নির্ণয় করা চিকিৎসকদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। রক্ত পরীক্ষা, লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং বোন ম্যারো পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হতে হয়। কর্টিকোস্টেরয়েড, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়; তবে বংশগত কারণে হলে অনেক সময় স্টেম সেল বা বোন ম্যারো প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন পড়ে। আফগান ক্রিকেটের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে অবশেষে এই বিরল রোগের কাছেই হার মানতে হলো।

সূত্র: এনডিটিভি