বীণা ছিল না, ছিল পদ্ম: ৯০০ বছর পরে বদলে গেলো মূর্তির পরিচয়

টানা নয় শতাব্দী ধরে যে চমৎকার মূর্তিটিকে বিদ্যাদেবী সরস্বতী মনে করে পুজো ও সংরক্ষণ করা হচ্ছিলো, আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জানা গেলো সেটি আসলে সরস্বতী নয়; বরং দেবী গায়ত্রী।

ভোপালের স্টেট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত দ্বাদশ শতাব্দীর এই লাল বেলেপাথরের মূর্তিটির আসল পরিচয় উন্মোচন করেছে থ্রিডি ম্যাপিং ও আধুনিক ডিজিটাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৯০০ বছরের এক ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধন হলো, যা ভারতের অন্যতম বিরল গায়ত্রী মূর্তির সন্ধান দিলো।

প্রত্নতাত্ত্বিক পরিদফতরের সঙ্গে যুক্ত গবেষক রমেশ যাদব জানান, এই মূর্তিটি দীর্ঘকাল ধরে নথিপত্রে দেবী সরস্বতী হিসেবেই নিবন্ধিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি মিউজিয়াম কমিশনার মূর্তিটির আসল পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তদন্তে সবচেয়ে বড় যে অমিলটি ধরা পড়ে, তা হলো মূর্তির হাতে কোনও ‘বীণা’ নেই, যা দেবী সরস্বতীর সবচেয়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য। বহু শতাব্দী আগে মূর্তির একটি ওপরের হাত ভেঙে যাওয়ায় আগের গবেষকেরা ধরে নিয়েছিলেন যে ভাঙা হাতটিতে হয়তো বীণা ছিল। কিন্তু উচ্চ-রেজোলিউশনের ডিজিটাল নথিপত্র ও থ্রিডি ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে হাতটির অবয়ব ও অবস্থান পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে বীণা নয়, বরং একটি ‘পদ্ম’ ছিল।

চার হাত বিশিষ্ট এই দেবী মূর্তিটি উপবিষ্ট ভঙ্গিতে রয়েছে। শাস্ত্রীয় ও প্রাচীন গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, এর নিচের ডানহাতে ‘জপমালা’, ওপরের ডানহাতে ‘পদ্ম’ এবং নিচের বামহাতে ‘বেদ’ গ্রন্থ রয়েছে। মূর্তির ডান পায়ের কাছে খোদাই করা রয়েছে একটি হংস বা রাজহাঁস, যা জ্ঞান ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের প্রতীক।

রমেশ যাদব বলেন, ভাস্কর্যটির এই সব বৈশিষ্ট্য ‘শিল্পশাস্ত্র’-এ বর্ণিত দেবী গায়ত্রীর ধ্রুপদি রূপের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্মে গায়ত্রী ও সরস্বতীকে একই ভাবা হলেও, ঋগ্বেদ অনুযায়ী গায়ত্রী এক স্বাধীন বৈদিক দেবী।

এই আবিষ্কার কেবল দেবীর পরিচয়ই বদলে দেয়নি, বরং মূর্তিটির শিল্পকলা নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এতকাল একে পরমার রাজবংশের শিল্পকর্ম মনে করা হলেও, এর সূক্ষ্ম অলংকরণ ও পোশাকের ধরন পরীক্ষা করে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলছেন, এতে দ্বাদশ শতাব্দীতে গুজরাট শাসন করা পশ্চিম চালুক্য শৈলীর শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি