‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির আরও কাছাকাছি চীন

পরমাণু সংযোজন প্রক্রিয়ায় কার্বনমুক্ত ও প্রায় সীমাহীন পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তৈরির লক্ষ্যে বিশাল এক অগ্রগতি অর্জন করেছে চীন। ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী সুপারকন্ডাক্টিং ফিউশন ম্যাগনেট সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা শেষ করেছে দেশটি। ২০৩০ সালের মধ্যে ফিউশন শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে রূপরেখা চীন নিয়েছে, এই সফলতা তাকে অনেকটাই এগিয়ে দিলো।

চায়নিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের ইনস্টিটিউট অব প্লাজমা ফিজিক্সের তৈরি এই ‘ডি’ আকৃতির বিশাল আকৃতির চুম্বকটির দৈর্ঘ্য ২১ মিটার, চওড়ায় ১২ মিটার এবং এর ওজন প্রায় ৫৮২ টন।

পরমাণু সংযোজন রিঅ্যাক্টরে ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উত্তপ্ত গ্যাস বা প্লাজমাকে দেয়ালের সংস্পর্শে আসতে না দিয়ে ভেতরে আটকে রাখতে সাহায্য করবে এই শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র। একই সঙ্গে রিঅ্যাক্টরের ‘হৃদপিণ্ড’ হিসেবে পরিচিত উচ্চ-তাপমাত্রার সুপারকন্ডাক্টিং সেন্ট্রাল সলোনয়েড কয়েলও পরীক্ষা করেছে তারা, যা রিঅ্যাক্টরে প্লাজমা প্রজ্জ্বলিত রাখতে কাজ করে।

দীর্ঘ ছয় বছরের এই কর্মযজ্ঞে ৪-টি পেটেন্ট এবং ২৫টি শিল্প মান অর্জিত হয়েছে এবং চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

এই বিশালাকার চুম্বকটির মাইনাস ২৬৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টানা ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর আগে চীনের এক্সপেরিমেন্টাল অ্যাডভান্সড সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১,০৬৬ সেকেন্ড প্লাজমা ধরে রেখে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল।

চীন জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তাদের বার্নিং প্লাজমা এক্সপেরিমেন্টাল টোকামাক সম্পূর্ণ হবে এবং ২০৩০ সালের দিকে প্রথমবারের মতো ফিউশন শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পূর্ণাঙ্গ রিঅ্যাক্টর সংযোজন ও বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে এখনও দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা ও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ পার হওয়া বাকি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে