ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে ‘সমুদ্র মন্থন’ নামে একটি জাতীয় অফশোর (উপকূলীয় বা সমুদ্র এলাকা) অনুসন্ধান প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে শুক্রবার (৩১ জুলাই) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৮৪ হাজার ৮৪ কোটি রুপি ব্যয়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বিকশিত ভারত-এর লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্ত্রিসভার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
‘সমুদ্র মন্থন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি তেল সমমানের হাইড্রোকার্বন মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। এছাড়া এটি অফশোর প্রযুক্তি ও সেবার জন্য বিশ্বমানের একটি প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুসন্ধান ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পাশাপাশি এই প্রকল্প শিল্প, উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রবক্ষে অনুসন্ধান ও উৎপাদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নানা পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই প্রকল্পে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমানের ভূকম্পন সংক্রান্ত (সিসমিক) তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, গভীর ও অতি-গভীর সমুদ্রে দ্রুত অনুসন্ধানী খনন, নতুন সীমানায় বৈজ্ঞানিক খনন, যৌথ উৎপাদন ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একটি সমন্বিত তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও সেবা অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।
এ ছাড়া এ খাতে গতি আনতে ডিজিটাল কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ, অংশীজনদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গত এক দশকে তেল ও গ্যাস খাতে ভারত বেশ কিছু সংস্কার এনেছে, যার মধ্যে অনুসন্ধানের জন্য প্রায় পুরো সমুদ্রসীমা উন্মুক্ত করা, আইনি ও চুক্তিভিত্তিক কাঠামো আধুনিকীকরণ এবং জাতীয় ডাটা রিপোজিটরি শক্তিশালী করা অন্যতম।
মন্ত্রিসভার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এসব সংস্কারের ওপর ভিত্তি করে ‘সমুদ্র মন্থন’ কৌশলগত সরকারি বিনিয়োগ, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিশ্বমানের অবকাঠামোর মাধ্যমে দ্রুত সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধানের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।