যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের ভূমিকা থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জনের আশা করছে পাকিস্তান। তবে দেশের ভেতরে আকাশছোঁয়া পেট্রোল ও নিত্যপণ্যের দামে বাড়ছে জনঅসন্তোষ। নতুন করে জ্বালানি কর আরোপ ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুক্রবার দেশজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নামেন।
কট্টরপন্থি ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামির ডাকে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। করাচি, লাহোর, পেশোয়ার, কোয়েটা, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি ও অ্যাবোটাবাদে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশের কারণে প্রধান মহাসড়ক ও সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
জামায়াতে ইসলামির প্রধান হাফিজ নাঈমুর রহমান সরকারের করনীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও তার মন্ত্রিসভাকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এই সরকার, এর আগের সরকার এবং তারও আগের সরকার সবাই একই সমস্যার সঙ্গে জড়িত। এ কারণেই এই কর গ্রহণযোগ্য নয়। এই কর বাতিল করতে হবে।
জিও টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাঈমুর রহমান দাবি করেন, সরকার পেট্রোলিয়াম লেভির মাধ্যমে ৮ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি আদায় করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নিজেদের অদক্ষতা ও দুর্নীতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইসলামাবাদকে বহু বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পেট্রোলিয়াম লেভি কমাতে দেবে না সরকারের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আপনারা বলছেন, আইএমএফ এটা করতে দেবে না। তাহলে আপনাদের এবং আপনাদের আইএমএফের ওপর ধিক্কার। দরিদ্রদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করুন, শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করুন। আমরা এই কর মেনে নেব না।
শুক্রবারের বিক্ষোভকে কেবল ‘ট্রেলার’ উল্লেখ করে নাঈমুর রহমান বলেন, আন্দোলনের মূল পর্ব এখনও শুরু হয়নি। জ্বালানির উচ্চমূল্য, পেট্রোলিয়াম লেভি ও বিদ্যুতের উচ্চমূল্যের প্রতিবাদে রবিবার লাহোরে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন এবং করাচি, পেশোয়ার ও কোয়েটায় গভর্নরের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন তিনি।
প্রসঙ্গত মার্চের শুরু থেকে শেহবাজ শরিফ সরকার প্রতি সপ্তাহে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করছে। এপ্রিলে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ৪৫৯ পাকিস্তানি রুপি প্রতি লিটারে পৌঁছায়। ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ৫২০ দশমিক ৩৫ পাকিস্তানি রুপি প্রতি লিটার। তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্বে জ্বালানির দাম বাড়ার দিক থেকে পাকিস্তান দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির ওপরে রয়েছে শুধু মিয়ানমার।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে