জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার (একিউআইএস) কার্যক্রম এবং বাংলাদেশে তাদের ঘাঁটি তৈরির চেষ্টার আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর পরপরই জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। ১৮ আগস্ট নয়াদিল্লিতে নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং জাতীয় নিরাপত্তা এমন বিষয় যা সবার জন্যই উদ্বেগের হওয়া উচিত। কারণ এটি সবার জন্য এক সাধারণ অভিশাপ এবং আমরা সবাই মিলে এই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আইএস ও আল-কায়দা সংক্রান্ত অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে একিউআইএসের সাম্প্রতিক তৎপরতার কথা উল্লেখ করা হয়। এই বিষয়ে এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কোনও প্রক্রিয়া রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এসব মন্তব্য করেন।
জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে লাল কেল্লায় সংঘটিত হামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে একিউআইএসের চালানো বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই গোষ্ঠীটি বাংলাদেশে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও ঘাঁটি তৈরির চেষ্টা করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, এই বিষয়ে নতুন কোনও তথ্য এলে তা আপনাদের জানানো হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশ কতৃক অতিরিক্ত ৪ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহের অনুরোধের বিষয়ে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান জ্বালানি সহযোগিতা রয়েছে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত বরাদ্দের যে অনুরোধ করা হয়েছে, সেটি আমাদের নিজেদের চাহিদা, পরিশোধনের ক্ষমতা এবং সরবরাহের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে আমরা পর্যালোচনা করে দেখছি।
বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে পরিচালিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর স্থবিরতা বা অগ্রগতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করতে ঢাকা থেকে কোনও অনুরোধ এসেছে কি না, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দুই দেশের অভিন্ন নদী সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমেই সমাধান করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) এবং নদী সম্পর্কিত অন্যান্য কারিগরি কমিটির সক্রিয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।