ভারতের শক্তিশালী জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে কেন?

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের সাবেক আমলা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নরের সমালোচনার পর সরকারি তথ্যের সত্যতা রক্ষায় মাঠে নেমেছে মোদি সরকার।

সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা যায়, এপ্রিল-জুন প্রন্তিকে দেশটির অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ৭.১ শতাংশ পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। তবে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক শীর্ষ আমলা সুভাষ চন্দ্র গর্গের দাবি, ভিত্তি বছর ও আগের উপাত্ত সংশোধন করার কারণে প্রবৃদ্ধির এই হিসাব ফাঁপা দেখাবে।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) সাবেক গভর্নর রঘুরাথম রাজানও প্রশ্ন তুলেছেন, জিডিপির এই জোরালো প্রবৃদ্ধি যদি সত্যি হয়, তবে কর্মসংস্থান, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও বৈদেশিক বিনিয়োগে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না কেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হওয়া এই বিতর্ককে হাতিয়ার বানিয়ে বিরোধী দল কংগ্রেস এটিকে মোদি সরকারের ‘পরিসংখ্যানের কারসাজি’ বলে কটাক্ষ করেছে। জুলাই মাসে শিক্ষার দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবে ছাত্র আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মোদি সরকার এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় এই সমালোচনার কড়া জবাব দেয়। পরিসংখ্যান সচিব জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিডিপি গণনার নতুন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যা ব্যাপক আলোচনার পর গৃহীত এবং যা অর্থনীতির সঠিক চিত্র তুলে ধরে।

নতুন ভিত্তিতে গত বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের জিডিপি ৮৬.০৫ ট্রিলিয়ন রুপি থেকে কমিয়ে ৮০ ট্রিলিয়ন রুপি করা হয়েছিল। যদি পুরনো পদ্ধতিতে হিসাব করা হতো, তবে প্রবৃদ্ধি ১০.৩ শতাংশের বদলে মাত্র ২.৬ শতাংশ হতো।

এ ছাড়া ২.৩ শতাংশ ডিফ্লেটর ব্যবহার নিয়েও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে গাড়ি বিক্রি ২১ শতাংশ বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং কর রাজস্ব ২৩ শতাংশ বাড়ার মতো অন্য তথ্যগুলো অর্থনীতির শক্ত অবস্থান নির্দেশ করে।

আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের মতে, এই প্রবৃদ্ধি প্রাসঙ্গিক হলেও সোসিয়েতে জেনারোলের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, কম ডিফ্লেটর প্রকৃত অর্থনৈতিক কার্যকারিতার শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

সূত্র: রয়টার্স