নবরাত্রির অনুষ্ঠানে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধ, কপালে তিলক বাধ্যতামূলক

ভারতের মহারাষ্ট্রজুড়ে ১০ দিনব্যাপী নবরাত্রি উৎসবে মুসলিমদের গারবা ও ডান্ডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। কট্টরপন্থি এই সংগঠনটি আয়োজকদের জন্য নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, আগতদের হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার কার্ড পরীক্ষা করা হবে এবং কপালে তিলক লাগানো বাধ্যতামূলক করা হবে।

রাজ্যজুড়ে নবরাত্রির অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ভিএইচপির জাতীয় মুখপাত্র ও যুগ্ম সম্পাদক শ্রীরাজ নায়ার বলেন, আমরা নবরাত্রি উৎসবের গারবা-ডান্ডিয়া নৃত্যে মুসলিমদের অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, নবরাত্রি উৎসব কেবল গান আর নাচের বিষয় নয়। এটি দেবীর আরাধনার উৎসব। যারা মূর্তি পূজার বিরোধী, তারা কেন এই উৎসবে অংশ নেবে?

তবে এটি কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয় দাবি করে নায়ার বলেন, ধর্মান্তর ও গোহত্যার বিষয়ে ভিএইচপি কোনও আপস করবে না এবং উৎসবকে হিন্দু সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে।

তিনি আরও বলেন, নবরাত্রির উৎসবে যোগ দিতে মুসলিমরা যদি এতই আগ্রহী হন, তবে তাদের উচিত পরিবার, স্ত্রী ও বোনদের সঙ্গে নিয়ে আসা। আর না হয় নিজেদের মসজিদ কিংবা বাসস্থানে নবরাত্রি উৎসবের আয়োজন করা।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ারে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত বলেছিলেন, কোনও হিন্দু যদি মনে করে ভারতে কোনও মুসলিম থাকা উচিত নয়, তবে সে আর হিন্দু থাকবে না... মানুষের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই।

আরএসএস প্রধানের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ভিএইচপি নেতা নায়ার বলেন, আমরা আরএসএস প্রধানের বক্তব্যের ওপর কোনও মন্তব্য করব না। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিতে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু বিষয় হলো, আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূজা পদ্ধতিতে যারা বিশ্বাসী নয়, তাদের জন্য আমরা আমাদের নির্দেশিকা কেন শিথিল করব?

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস