ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ভয়াবহ দাবানলের কারণে লাখ লাখ টন কার্বন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বোর্নিও দ্বীপের প্রায় ৪৫ লাখ হেক্টর বনাঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম ট্রপিক্যাল পিটল্যান্ড পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকে এসব জলাভূমির নিচে জমা হয়ে থাকা বিশাল পরিমাণ কার্বনকে বিজ্ঞানীরা অভিহিত করছেন ‘কার্বন বোমা’ হিসেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজার হাজার বছর ধরে পিটল্যান্ডের নিচে জমে থাকা কার্বন পোড়ানোর ফলে তা দ্রুত বায়ুমণ্ডলে নির্গত হতে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়ার সংরক্ষণভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা ইয়ায়াসান কনসারভাসি আলম নুসান্তারা-এর পিটল্যান্ড গবেষক ড. নিসা নোভিতা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার ট্রপিক্যাল পিটল্যান্ডগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক কার্বন ভাণ্ডারগুলোর অন্যতম।
ইন্দোনেশিয়ার কালিম্যানতান অঞ্চলে পিট স্তরের গভীরতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ মিটারেরও বেশি। গবেষকদের মতে, এই গভীরতায় জমে থাকা ৬ হাজার টনেরও বেশি কার্বন নির্গমনের পরিমাণ বছরে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি গাড়ির কার্বন নির্গমনের সমান। চলতি বছরের শুরু থেকে শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার কারণে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে ইতোমধ্যে সুমাত্রা ও কালিম্যানতানের প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর বন ও কৃষিজমি ভস্মীভূত হয়েছে।
এই বিষাক্ত দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনে। এসব অঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে ৭৫ গুণ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত জুলাই থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশটিতে ৫০ হাজার মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ হাজারই শিশু। পিটল্যান্ডের ভূগর্ভস্থ আগুন নেভাতে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজের জীবন ঝুঁকি নিয়ে জলাশয় ও খাল খনন করে সেচব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন।
চলতি বছরের আগস্টে এই দাবানলের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব মিলিয়ে অঞ্চলটিতে এক কোটিরও বেশি মানুষ এই বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন।
সূত্র: উইয়ন নিউজ