দুধে ডিটারজেন্ট আছে কি না সহজে জানবেন যেভাবে

দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি গৃহস্থালিতেই প্রতিদিন কোনও না কোনও রূপে দুধ ব্যবহৃত হয়। তবে দুধে ভেজালের আশঙ্কা থাকায় কী পান করছি, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত দুধের পাতলা ভাব লুকাতে এবং এর চেহারা বা ঘনত্ব ঠিক রাখতে এতে ডিটারজেন্ট মেশানো হতে পারে। এ ধরনের ভেজাল চিহ্নিত করতে বাড়িতেই করা যায় এমন একটি সহজ পরীক্ষার উপায় শেয়ার করেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এফএসএসএআই)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে এফএসএসএআই দেখিয়েছে কীভাবে ঘরে বসেই দুধে ডিটারজেন্টের উপস্থিতি পরীক্ষা করা সম্ভব। এর জন্য প্রথমে একটি ছোট গ্লাসে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার দুধের নমুনা নিতে হবে। এরপর নমুনাটি খুব জোরে ঝাঁকাতে হবে এবং এর প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে হবে।

যদি দুধের নমুনায় কোনও বুদ্বুদ বা ফেনা না তৈরি হয়, তবে সেটি ভেজালমুক্ত খাঁটি দুধ। অন্যদিকে দুধে ভেজাল থাকলে সেখানে দৃশ্যমান বুদ্বুদ তৈরি হবে। খাঁটি দুধের সারফেস টেনশন বেশি থাকায় ঝাঁকালে তৈরি হওয়া বাতাসের পকেটগুলো সঙ্গে সঙ্গেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু সিন্থেটিক ডিটারজেন্ট বা সাবান মেশালে তরলের সারফেস টেনশন কমে যায়, যা বাতাসকে আটকে রেখে স্থায়ী বুদ্বুদ তৈরি করে।

দুধে ভেজাল এড়াতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। প্রথমত, জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা সুনামধন্য ব্র্যান্ডের দুধ কেনা সবচেয়ে নিরাপদ। যেকোনও প্যাকেট বা কার্টন কেনার আগে সেটির সিল, উপাদানের তালিকা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত লোগো দেখে নেওয়া উচিত। প্যাকেটে সবুজ রঙের এফএসএসএআই লোগো এবং এর নিচের ১৪ ডিজিটের বৈধ লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে কেনা জরুরি। এছাড়া প্লাস্টিকের প্যাকেটের চেয়ে টেট্রা প্যাক কার্টন কেনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত; কারণ প্লাস্টিকের প্যাকেট সহজে নষ্ট হয় এবং এতে স্থানীয় সরবরাহকালে গরম বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের ঝুঁকি থাকে।

সূত্র: এনডিটিভি