বিশ্বের ধনকুবেরদের আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি এখন আর তেল বা রিয়েল এস্টেট (আবাসন) খাত নয়; জায়গাটি দখল করে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। অ্যালেট্রা-এর প্রকাশিত বিলিয়নিয়ার সেঞ্চুরি ২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে বিলিয়নিয়ারদের মোট সম্পদের পরিমাণ পৌঁছেছে রেকর্ড ১৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখন বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ৩ হাজার ৭৯৫ জন, যা গত এক বছরে ৮.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে ধনকুবেরদের সংখ্যা বাড়ার এটাই দ্রুততম হার। অ্যালেট্রা জানিয়েছে, তারা বিলিয়নিয়ারদের সম্পদে প্রভাব বিস্তারকারী ১৫০টি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বিশ্লেষণ করে দেখেছে, যারা এআই খাতে বড় বিনিয়োগ করেছে, তাদের বাজারমূল্য অন্য কোম্পানিগুলোর তুলনায় ২৩ শতাংশ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর ভর করে তৈরি হচ্ছে এসব বিশাল সম্পত্তি।
ধনকুবেরদের মধ্যে আবার অতি-ধনী বা সুপার বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক এমন ব্যক্তি ২০২৫ সালে ছিলেন মাত্র ২৯ জন। তবে মোট বিলিয়নিয়ার জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম হওয়া সত্ত্বেও তারা বিশ্বের মোট বিলিয়নিয়ার সম্পদের ২৭ শতাংশ (৪.১ ট্রিলিয়ন ডলার) নিয়ন্ত্রণ করছেন। ২০১৭ সালে যেখানে এমন সুপার বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ জন।
অঞ্চলের দিক থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩৩৭ জন বিলিয়নিয়ার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে উত্তর আমেরিকা, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ১১.৬ শতাংশ। এরপরে ইউরোপে ৭.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ১,০৮১ জন এবং এশিয়ায় ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিতে ৮৮১ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন।
তবে এসব সম্পদের বড় অংশই শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত কাগুজে সম্পদ। অ্যালেট্রার গবেষণা প্রধান মায়া ইমবার্গ সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তি খাতের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই সম্পদ এআই বাজারের ওঠানামার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। অন্যদিকে ইউবিএস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২ হাজার ৯১৯ জন বিলিয়নিয়ারের মোট সম্পদ ১৫.৭৮১ ট্রিলিয়ন ডলার। গণনার পদ্ধতির পার্থক্যের কারণে অ্যালেট্রা ও ইউবিএস-এর তথ্যে কিছুটা ব্যবধান রয়েছে।
বিলওয়্যার ফিনসার্ভ-এর পার্টনার অভিষেক বিলওয়্যারিয়া বলেন, বিশ্বব্যাপী এই অর্থনৈতিক রূপান্তরে এআই মূল ভূমিকা পালন করছে, যা উদ্যোক্তা ও প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের বিপুল সম্পদ তৈরি করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে স্থায়িত্ব বজায় রাখতে এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য বহুমুখী বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি

ইরান যুদ্ধে মার্কিনিদের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার
ইঞ্জিনে ত্রুটি, ১৮৬ যাত্রী নিয়ে চেন্নাইয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের জরুরি অবতরণ







