একটি স্থায়ী শিক্ষকতার ক্যারিয়ার ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য যে সাহসের প্রয়োজন, তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন তামিলনাড়ুর এক কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপিকা। একটি বাজরা বা মিলেটের (ক্ষুদ্র দানাযুক্ত ঘাসজাতীয় শস্যের সামষ্টিক নাম) ব্যবসা শুরু করে তিনি এখন সফল উদ্যোক্তা। যে সিদ্ধান্তটি একসময় নিজস্ব কিছু গড়ার ইচ্ছা হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা আজ বছরে প্রায় ৩ কোটি রুপি আয়ের এক সফল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
উটির এমারেল্ড হাইটস কলেজ ফর উইমেন-এর উপাধ্যক্ষ পদ থেকে ২০১৫ সালে ইস্তফা দেন সুভদ্রা নামের এই অধ্যাপিকা। এরপর বাজরা প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি মহীশূরের সেন্ট্রাল ফুড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটে যান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তার তিনটি প্রধান কারণ ছিল। প্রথমত, তিনি সবসময় তার শিক্ষার্থীদের চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হওয়ার পরামর্শ দিতেন। তিনি বলেন, আমি যা তাদের পরামর্শ দিতাম, তা নিজে করে দেখাতে চেয়েছিলাম।
দ্বিতীয়ত, তিনি নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচার করতে চেয়েছিলেন। সুভদ্রা উল্লেখ করেন যে, খাবারে প্রিজারভেটিভের কারণে তিনি হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগেছিলেন এবং দুবার তার গর্ভপাত হয়। তিনি বলেন, আমার মনে হয়েছিল সমস্যাটি আমাদের খাওয়ার খাবারের মধ্যেই ছিল। বাজরা বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, এটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি শস্য, যা গ্লুটেন-মুক্ত এবং প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর।
গবেষণার সময় তাকে বলা হয়েছিল, ব্যাটারে প্রিজারভেটিভ ব্যবহার না করলে এর স্থায়িত্ব কমে যাবে এবং কোল্ড চেইনের জন্য বিশাল বিনিয়োগ লাগবে। তবুও তিনি দমে যাননি এবং চার হাজার বর্গফুটের এক লিজ নেওয়া জমিতে ২০ লাখ রুপি বিনিয়োগ করে বাছাই, গ্রেডিং, ভেজানো, পেষণ ও প্যাকেজিংয়ের জন্য কাস্টমাইজড যন্ত্রপাতি বসান।
চালুর সময় দৈনিক ১ হাজার ১ কেজির প্যাকেট তৈরির ক্ষমতা থাকলেও শুরুতে দিনে ৫০টি প্যাকেটও বিক্রি হচ্ছিল না। পিভিআর ফুডস-এর তৈরি ২০০ প্যাকেটের প্রথম ব্যাচটি বিক্রিই হয়নি, কারণ কোয়েম্বাটুরের খুচরা দোকানগুলো সাদা রঙের নয় এমন ইডলি বা ডোসার ব্যাটার বিক্রি করতে আগ্রহী ছিল না। ফলে বিনামূল্যে স্যাম্পল হিসেবে মানুষকে তা দিতে বাধ্য হন তিনি।
মানুষ যখন এটি ব্যবহার শুরু করে, তখন মুখে মুখে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে। সুভদ্রা জানান, পিভিআর ফুডস এখন ৮৩টি রান্নাযোগ্য বাজরার পণ্য অফার করছে। যার মধ্যে রয়েছে ব্যাটার, আটা, নুডুলস, পোঙ্গল এবং হেলথ মিক্স।
কোয়েম্বাটুরের তামিলনাড়ু অ্যাগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি থেকে লালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ‘স্টার্টআপ টিএন’-এর অধীনে ১৫ লাখ রুপি বীজ তহবিল এবং কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক স্কিমের অধীনে ২৩ লাখ রুপির অনুদান পায়। বর্তমানে সুভদ্রার এই প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি রুপি রাজস্ব আয় করছে।
সূত্র: এনডিটিভি