অন্ধকার দোকানের মিষ্টিতেই লুকিয়ে আছে শহরের পরিচয়

দক্ষিণ ভারতের একটি শহরে হালওয়া কেবল কোনও উৎসবের মিষ্টান্ন নয়, বরং তা এই শহরের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলি শহরটি সমগ্র ভারতে হালওয়ার শহর নামে পরিচিত। নরম, চকচকে ও গাওয়া ঘিয়ে ভরপুর গম থেকে তৈরি এই তিরুনেলভেলি হালওয়া শহরটির সবচেয়ে বড় রন্ধনশিল্পের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এমনকি তিরুনেলভেলির পৌরসভার মাস্টার প্ল্যানেও শহরটির স্মরণীয় স্থানীয় খাদ্যের তালিকায় হালওয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যান্য হালওয়ার চেয়ে এর তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ আলাদা। সুজি বা ময়দার বদলে গম ভিজিয়ে রাখা শ্বেতসারযুক্ত দুধ নিষ্কাশন করে তা ধীর আঁচে চিনি ও প্রচুর পরিমাণে ঘি দিয়ে রান্না করা হয়। এই দীর্ঘ রান্নার প্রক্রিয়াই এর বিশেষ স্বচ্ছ চেহারা ও আঠালো টেক্সচার এনে দেয়।

এই হালওয়ার উৎপত্তি নিয়ে বেশ কিছু মতভেদ রয়েছে। তিরুনেলভেলি পৌরসভার মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী, ১৮০৮ সালে এক ব্যবসায়ী শহরের বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাজস্থানি ধাঁচের হালওয়া বিক্রি শুরু করার পর এটি জনপ্রিয় হয়।

অন্যদিকে অন্যান্য ঐতিহাসিক তথ্য বলে, ১৯ শতকের শেষের দিকে এই হালওয়ার ব্যবসা আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ নেয়। উৎস নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও এটি যে শহরের নিজস্ব সংস্কৃতি তৈরি করেছে, সে বিষয়ে সবাই একমত।

তিরুনেলভেলি হালওয়ার আলোচনায় যে নামটি সবচেয়ে আগে আসে তা হলো ইরুট্টু কাদাই, যার শাব্দিক অর্থ অন্ধকার দোকান। ঐতিহাসিক নেল্লাইয়াপ্পার মন্দিরের কাছে অবস্থিত এই দোকানটি তার অসাধারণ হালওয়া ও আবছা পরিবেশের জন্য পরিচিত।

স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শুরুর দিকে কোনও বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানটি তেলের প্রদীপের আলোয় চলত, যা থেকে পরবর্তীতে এই নামের উৎপত্তি।

বর্তমানে শহরের অনেক দোকানে এই হালওয়া বিক্রি হলেও ইরুট্টু কাদাই আজও সবচেয়ে আইকনিক প্রতিষ্ঠান। এখন মন্দিরের ঐতিহ্যের মতোই এই হালওয়া তিরুনেলভেলির এক অনন্য স্বাক্ষর বহন করে চলেছে।

সূত্র: এনডিটিভি