নাগরিকদের দেশের বহিরে যাওয়া ও বিদেশ থেকে ফেরার ক্ষেত্রে নতুন করে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে চীন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব নিয়মের ফলে নাগরিকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
নতুন নিয়মে বিদেশে অবস্থানকালে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করেছে বলে বিবেচিত নাগরিকদের সর্বোচ্চ তিন বছর দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়া যাবে। শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিরাও এ বিধিনিষেধের আওতায় পড়বেন।
সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো কৌশলগত খাতগুলোতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এর আগে এসব খাতের কিছু নির্বাহীর ওপর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মার্চে মেটার অধিগ্রহণ করা এআই কোম্পানি ম্যানাসের সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের চীন ছাড়তে বাধা দেওয়ার খবরও পাওয়া যায়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়ে চীনা নাগরিকদের সতর্ক করার নির্দেশ সীমান্ত কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ম ঘোষণার আগেও সরকারি কর্মকর্তা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং পরে সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশের বিদেশযাত্রায় নিয়ন্ত্রণ ছিল।
বেইজিংয়ের একটি রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিয়াও ওয়াং নামে এক ব্যক্তি জানান, তার সহকর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট জমা রাখতে হয় এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনুমতি নিতে হয়।
তবে চীনা সরকারের গুজব খণ্ডনকারী প্ল্যাটফর্ম পিয়াও এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন নিয়ম সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণ সীমিত করার জন্য নয়। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গন্তব্য ও অস্বাভাবিক ভ্রমণপ্রবণতার বিরুদ্ধে এটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। বিদেশে প্রতারণার শিকার হওয়া, অবৈধ জুয়া ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা মোকাবিলায় এসব বিধিমালা করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠন সেফগার্ড ডিফেন্ডার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা নাগরিকদের ওপর বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। চীনের সুপ্রিম কোর্টের তথ্যমতে ২০১৬ সালে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ ছিল মাত্র ৮৯টি। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৬০টিতে।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এশিয়ান ল-এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক টম কেলগ বলেন, এসব বিধিনিষেধের বিস্তার গভীরভাবে উদ্বেগজনক। তার মতে, শি জিনপিংয়ের অধীনে এটি ক্রমবর্ধমান আদর্শিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিফলন, যা মাও সেতুংয়ের যুগের কথা মনে করিয়ে দেয়।
অধ্যাপক টম কেলগ আরও বলেন, বিদেশে চীনা নাগরিকদের কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি সরকারের আরেকটি হাতিয়ার। তার দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশে সরকারের সমালোচনা বা অধিকার নিয়ে কাজ ঠেকাতে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ সরাসরি পাসপোর্ট ইস্যু করতে অস্বীকৃতি জানায়।