ককরোচ পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা, যন্তর মন্তরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের উপ-কমিশনারের কার্যালয় থেকে এয়ারটেল, ভোডাফোন-আইডিয়া, জিও এবং এমটিএনএলকে পাঠানো এক নির্দেশে জানানো হয়, টেলিযোগাযোগ আইন ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত সব প্রযুক্তির মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব।

এর আগে গত জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির আন্দোলন চলাকালেও যন্তর মন্তর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে তখনকার ১.৫ কিলোমিটারের জায়গায় এবার ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ পদক্ষেপ জরুরি। ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করার কারণে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান, গুরুদ্বারা বাংলা সাহিব, বারাকহাম্বা রোড, খান মার্কেট, লোধি রোড এবং জংপুরা অঞ্চল আক্রান্ত হবে।

এর আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং কাশ্মীরে গেটসহ দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং শনিবার সকালে আগাম নির্ধারিত ৬০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রো স্টেশন ও ট্রেন চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট করা হলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে বলেন, মাছি মারতে কামান দাগা যায় না।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, কম বয়সী ও বয়স্ক সব শ্রেণির মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ যাত্রীদের মৌলিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিধিনিষেধ আরোপ এবং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

আদালত আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্চয়ই নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আপনারা অনিয়ন্ত্রিত চলাচল রোধ করতে চাইলে তা করতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনারা সবকিছু স্তব্ধ করে দেবেন এবং মানুষকে যাতায়াতের কোনও মাধ্যম ছাড়াই ফেলে রাখবেন।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব।

সূত্র: এনডিটিভি