আসামে তিন শিশুসহ ১২ বাংলাদেশি আটক

ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলা থেকে তিন শিশুসহ ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। ঘটনাটিতে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন চক্রের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় এক বাসিন্দা ৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩টি শিশু সমন্বয়ে গঠিত দলটিকে আতঙ্কে ঘোরাফেরা করতে এবং কান্নাকাটি করতে দেখেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আটকেরা জানান, সবুর নামের এক দালালের সহায়তায় গত ৫ অক্টোবর মেঘালয়ের জাফলং সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর দালাল ও তার সহযোগী এক খাসিয়া ব্যক্তি তাদের গুয়াহাটিতে নিয়ে গিয়ে তিন দিন আটকে রাখেন। পরে গুয়াহাটি রেলস্টেশনের কাছে তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার বাংলাদেশি টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দালাল পালিয়ে যায়।

এরপর দলটি শুক্রবার রাতে বাসে করে গোয়ালপাড়ায় পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই দালাল গুয়াহাটির একটি কোম্পানিতে কর্মরত অন্যান্য বাংলাদেশির ভিডিও কল দেখিয়ে তাদের চাকরির আশ্বাস দিয়েছিল। প্রাপ্তবয়স্ক ৯ জনের প্রত্যেকের বিনিময়ে কোম্পানির মালিকের দালালকে ২০ হাজার রুপি করে দেওয়ার কথা ছিল, যা পরবর্তী সময়ে তাদের মজুরি থেকে কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ঘটনাটিতে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের যোগসূত্র রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এটি নিয়ে আরও তদন্ত করছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তাকারীদের খুঁজে বের করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম রাজ্যের মধ্যে ২৬৭.৫ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এর আগে আসাম পুলিশ ও সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশ থেকে যেকোনও ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে