বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজার যখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে, ঠিক তখনই চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের চাহিদা নিয়ে সংশয় এবং রফতানি বিধিনিষেধের কারণে বাজার ধসের ঘটনা ঘটেছে। চার মাসেরও কম সময়ে দেশটির এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের শীর্ষ সূচক স্টার৫০ ৪০ শতাংশ কমে গিয়ে প্রায় ৪৮০ বিলিয়ন (৪৮ হাজার কোটি) ডলারের বাজারমূল্য হাওয়া হয়ে গেছে।
এ ঘটনা চীনের সামগ্রিক পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি এআই খাতে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করার বেইজিংয়ের প্রচেষ্টাকে ধাক্কা দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি চীনের মূল ব্লু-চিপ সূচক সিএসআই৩০০-কে জুন মাসের সর্বোচ্চ দর থেকে প্রায় ২০ শতাংশ নিচে নামিয়ে এনেছে।
বেইজিংভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থাপক দং বাওঝেন বলেন, শেয়ারবাজারটি পরবর্তীতে একটি ফটকাবাজিপূর্ণ ক্ষ্যাপাটে চাঙ্গা বাজারে রূপ নিয়েছিল। আর এখন আমরা সেই বুদ্বুদ বা বেলুন ফেটে যেতে দেখছি।
গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, চীনা ও হংকংয়ের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোট শেয়ারের ৪২ শতাংশ বাজারমূল্য এবং ৫৭ শতাংশ লেনদেনই ছিল এআই খাতের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হিউম্যানয়েড রোবট প্রস্তুতকারক ইউনিট্রি এবং চিপ প্রস্তুতকারক সিএক্সএমটি-এর শেয়ারের দাম ব্যাপক হারে কমেছে। এছাড়া গত বছর বাজারে এসে ৪০০ থেকে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়া চিপ নির্মাতা মেটাক্স ও মুর থ্রেডস-এর শেয়ারের দর গত জুলাইয়ের পর অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
পণ্য রফতানিতে মার্কিন বিধিনিষেধের আশঙ্কায় অপটিক্যাল যন্ত্রাংশ নির্মাতা ঝংজি ইনোলাইট এবং ইওপ্টোলিংক-এর শেয়ারের দাম জুন-জুলাইয়ের শীর্ষ দর থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ পড়ে গেছে। হংকংভিত্তিক লোটাস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা অংশীদার হাং হাও বলেন, বর্তমানে যা ঘটছে তা অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টাকে থামিয়ে দেবে।
অন্যদিকে বেইজিংভিত্তিক কিয়ানচুয়াং ক্যাপিটালের অংশীদার লিও ওয়াং জানান, প্রধান সূচকগুলোতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারমূল্যকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়ার ফলে মূলধনি আচরণে বিকৃতি ঘটেছে। এটি নির্দিষ্ট কিছু খাতে মারাত্মক বুদ্বুদ তৈরি করেছে এবং অন্য খাতগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে সাংহাই ঝুওঝু ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের অংশীদার ওয়াং ঝুও বলেন, চীনা এআই ও চিপ প্রস্তুতকারকরাও শেষ পর্যন্ত মূল্যযুদ্ধে লিপ্ত হবে। সব বুদ্বুদই অনিবার্যভাবে ফেটে যায়।
সূত্র: রয়টার্স