ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের যে গুহা থেকে ‘হবিট’ নামের প্রাচীন মানব প্রজাতির সন্ধান মিলেছিল, সেখানেই পায়ের হাড়ের একটিমাত্র টুকরো থেকে সম্পূর্ণ এক নতুন প্রজাতির প্রাগৈতিহাসিক পাখির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানের সাধারণ মুরগির চেয়ে কয়েক গুণ ভারী এই বিলুপ্ত প্রজাতির পাখির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেগাপোডিয়াস রোকুসি’।
২০২৬ সালের অক্টোবরে অ্যালচেরিঙ্গা নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, জীবাশ্মীভূত ডান পায়ের হাড়টি থেকে জানা যায় পাখিটির ওজন আনুমানিক ৩ দশমিক ৯ কেজি (৮ দশমিক ৬ পাউন্ড) ছিল। এটি বর্তমানে ওই দ্বীপে টিকে থাকা সম্পর্কিত যেকোনও প্রজাতির চেয়ে অনেক বড়।
পাখিটি মেগাপোড বা ইনকিউবেটর পাখি পরিবারভুক্ত। মুরগির এই দলটির শক্তিশালী পা ও বড় নখ থাকে। সাধারণত পাখির মতো ডিমে তা না দিয়ে এরা পরিবেশের তাপ বা পচনের তাপ ব্যবহার করে ডিম ফুটিয়ে থাকে। ফ্লোরেস দ্বীপের লিয়াং বুয়া গুহা থেকে ২০০৯ সালে হাড়টি আবিষ্কৃত হলেও সম্প্রতি এটি নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ফ্লোরেসের প্রাচীন প্রাণীর অবশেষ নিয়ে কাজ করা ইন্দোনেশীয় চিড়িয়াখানা প্রত্নতাত্ত্বিক রোকুস দু আওয়ারের সম্মানার্থে এই নামকরণ করা হয়েছে।
হাড়ের নমুনাটি ১ লাখ ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার বছর আগের গুহার পলিমাটি থেকে উদ্ধার করা হয়। ওয়ালেরিয়া অঞ্চলে এটিই প্রথম মেগাপোড পাখির জীবাশ্ম, যা ওই অঞ্চলের প্রাচীন পাখি সম্পর্কে গবেষকদের নতুন তথ্য দিচ্ছে। তবে ডানা বা কাঁধের হাড় না পাওয়ায় পাখিটি উড়তে পারত কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। এমনকি এটি কবে বিলুপ্ত হয়েছিল বা বর্তমানের ছোট আকৃতির মেগাপোড পাখির সঙ্গে একই সময়ে বেঁচে ছিল কি না, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, বড় প্রজাতিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরেই আধুনিক প্রজাতিটি ফ্লোরেসে এসে থাকতে পারে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ