দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফের উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাকযুদ্ধ

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ফের বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। উভয় দেশের বাকযুদ্ধের ফলে অঞ্চলটি ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা। দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন কোনও স্থাপনা গড়ে তুললে চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের হুশিয়ারির পরই নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের হুশিয়ারিকে চীন উসকানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটি দাবি করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকা নিয়ে কোনও ধরনের ‘উত্তেজনাকে’ তারা ভয় করে না।

দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের তৎপরতার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ সরব যুক্তরাষ্ট্র। মাঝে মাঝে ওই এলাকায় মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ টহল দেওয়া নিয়ে এর আগেও একে অপরের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ এনেছে দেশ দুটি। বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ-টহল জোরদার করেছে বেইজিং। ইতোমধ্যে নিজেদের তৈরি কয়েকটি কৃত্রিম দ্বীপে সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করেছে চীন।

এ অবস্থায় লন্ডনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) আয়োজনে শুক্রবার থেকে শাংগ্রিলা সংলাপ শুরু হয়েছে। সিঙ্গাপুরের শাংগ্রিলা হোটেলে এশিয়ার প্রায় ২৮ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তারা এ সংলাপে অংশগ্রহণ করছেন। দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় ফিলিপাইনের দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার সংলাপে বলেন, বিতর্কিত দ্বীপে নিজেকে আলাদা রাখতে ‘সামরিক দেয়াল’ তৈরির চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্রসহ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় তা বন্ধ করা হবে।

কার্টার আরও বলেন, বিতর্কিত এ দ্বীপে চীনের একক আধিপত্য এশিয়ার দেশগুলো মেনে নেবে না। দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক মহড়া বাড়ালেও বেইজিং শক্তিশালী হবে না, বরং এশিয়া থেকে আলাদা হয়ে যাবে। চীনের এমন আচরণে এশিয়ার দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বেইজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে বলেও হুশিয়ারি করেন কার্টার।

শুক্রবারই অ্যাশটন কার্টারের এ মন্তব্যে ত্বরিত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চীনের আন্তর্জাতিক সেনা সহযোগিতা দপ্তরের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল গোয়ান জোফেই।তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা উস্কে দিচ্ছে। চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার ফল নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই আসবে না।

রবিবার সিঙ্গাপুরে নিরাপত্তা সম্মেলনে চীনের অ্যাডমিরাল সান জিয়াংগুয়ো বলেন, ‘এই বিষয়ে বাইরের দেশগুলোর গঠনমূলক ভূমিকা নেওয়া উচিত। তাদের অন্য কোনও ভূমিকা রাখা উচিত না। নির্দিষ্ট কিছু দেশ তাদের হীন স্বার্থে এই অঞ্চলে উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এ কারণে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুটি চরম উত্তেজনাকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চীনের অ্যাডমিরাল আরও বলেন, ‘আমরা উত্তেজনা সৃষ্টি করি না। তবে আমরা একে ভয়ও পাই না।’

এদিকে,  চলমান বাকযুদ্ধে রবিবার যোগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও। বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন (এডিআইজেড) স্থাপনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। মঙ্গোলিয়া সফরে থাকা কেরি দেশটির রাজধানী উলান বাটোরে সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি অঞ্চলে চীনের এই সামরিক স্থাপনা নির্মাণকে ‘উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

উল্লেখ্য, জাহাজ চলাচলের বাণিজ্যিক রুট ও খনিজসম্পদে ভরপুর দক্ষিণ চীন সাগরের বেশ কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে আসছে চীন। এ দাবি থেকেই ফিলিপাইনের উপকূলবর্তী স্কারবুরাফ শোয়লে কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ করেছে তারা। সেখানে বানাতে যাচ্ছে সেনাঘাঁটি।  সীমান্ত থেকে মাত্র ২৩০ কিলোমিটার (১৪০ মাইল) দূরবর্তী এ দ্বীপের মালিকানা দাবি করে আসছে ফিলিপাইন। কিন্তু চীনের আপত্তির কারণে তা সে দাবি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে ম্যানিলা। আগামী সপ্তাহে এ মামলার রায় প্রকাশ হতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স।

আরও পড়ুন:

/এএ/