বাণিজ্যযুদ্ধের জেরে চীন ছাড়ার কথা ভাবছে বহু মার্কিন প্রতিষ্ঠান

শুল্ক-পাল্টা শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে বিপাকে পড়েছে চীনে অবস্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। লোকসান ঠেকাতে ও মুনাফা বাড়াতে চীন ছাড়ার কথা ভাবছে তারা। ‘আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন সাউথ চায়নার’ জরিপের ফলাফল থেকে জানা গেছে, চীনের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬৪ শতাংশই অন্য কোনও দেশে ব্যবসা সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্তও স্থগিত করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র এক শতাংশ জানিয়েছে, চীন থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা খুলবে।s4.reutersmedia.net

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনে উৎপাদন শিল্পে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো ভিয়েতনাম, জার্মানি ও জাপানের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ক্রমেই বর্ধিত প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। অবশ্য চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য, তাদের ক্ষেত্রেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে আর তা হচ্ছে ভিয়েতনাম, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে। ‘অ্যামচ্যাম সাউথ চায়নার’ সভাপতি হারলে সেয়েদিন বলেছেন, ‘অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ক্রেতারা অর্থ ধরে রেখেছেন। হয়তো তারা আরও বেশি স্থিতিশীল পরিবেশের অপেক্ষা করছেন। অথবা তারা অন্য কোনও দেশের প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে গেছেন। আর সেসব প্রতিষ্ঠান এমনকি লোকসানেও পণ্য বিক্রি করবে মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধির জন্য। এর কারণ, একবার মার্কেট শেয়ার হারালে তা ফিরে পাওয়া খুব কঠিন।’

‘আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন সাউথ চায়নার’ সদস্য মোট ২১৯টি। অ্যামচ্যামের জরিপের ফলাফল থেকে জানা গেছে, ‘৭০ শতাংশেরও বেশি মার্কিন প্রতিষ্ঠান পরিকল্পিত বিনিয়োগ বাতিল করেছে বা স্থগিত রেখেছে। অথচ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র অর্ধেক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ মার্কিন শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইকারি ও খুচরা পণ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে কৃষিপণ্যের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশি ক্ষতি হয়েছে চীনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের কারণে।

জরিপ করা হয়েছে গত ২১ সেপ্টেম্বরের থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। আর তার জবাবে চীন জানিয়েছিল, তারা ছয় হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করবে। আগামী জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের পরিমাণ আরও বাড়বে।

অ্যামচ্যামের জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জানিয়েছে, শুল্ক-পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘটনায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের শুল্কের চেয়ে বরং মার্কিন শুল্কের কারণে তাদের ওপর বেশি প্রভাব পড়েছে।

৮৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের ওপর একই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব পড়েছে। যে বিষয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত, তা হচ্ছে পণ্য বিক্রির পরিমাণ। শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং তার ফলে ক্রেতাদের কম পণ্য কেনার পরিণতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাও কমে গেছে।