চীন উদ্ভাবিত অতি গোপনীয় মহাকাশযান ‘শেনলোং’-এর একটি স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)। এটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত যানটির এযাবৎকালের সবচেয়ে নিখুঁত ও সেরা ছবি। ছবিতে মহাকাশযানটিকে নিচের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে এবং এর লেজের অংশে সোলার বা সৌর প্যানেল রয়েছে। ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ম্যাক্সার টেকনোলজিস’ ২০২৪ সালে ছবিটিকে ধারণ করে, যা পরবর্তীতে ডিআইএ-এর ‘চ্যালেঞ্জেস টু সিকিউরিটি ইন স্পেস’ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ডিআইএ প্রকাশিত ১৩০ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ মহাকাশে কী ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের অন্যতম প্রধান জোর দেওয়া হয়েছে মহাকাশ বর্জ্যের বা স্পেস ডেব্রির ওপর। অকেজো স্যাটেলাইট এবং মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে এক বিশাল সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এগুলো ‘কেসলার সিনড্রোম’ নামে পরিচিত একটি শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করতে পারে, যেখানে উচ্চগতির সংঘর্ষে একের পর এক স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে আরও বর্জ্য তৈরি হতে থাকে। এছাড়া প্রতিবেদনে চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে ভবিষ্যতের বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ‘শেনলোং’-কে নামবিহীন একটি চীনা মহাকাশযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে এই মহাকাশযানটির অস্তিত্ব থাকলেও এর কাজ ও ক্ষমতা সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২০ সালে এই যানটির একটি প্রোটোটাইপ দুই দিনের কক্ষপথ অভিযানে পাঠানো হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে এটি ২৭৬ দিন এবং ২০২৩ সালে তৃতীয় অভিযানে ২৬৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করে। ম্যাক্সার টেকনোলজিসের নেওয়া ছবিটি মূলত ২০২৩ সালের এই অভিযানের সময় তোলা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিআইএ আরও জানিয়েছে, মহাকাশযানটি সে সময় কক্ষপথে একটি অজ্ঞাত বস্তু ছেড়েছিল। তবে এটি ছাড়া যানটির অন্য সব বিষয়ই এখনও রহস্যঘেরা। চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লাঞ্চ সেন্টার থেকে গত ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেনলোং তার চতুর্থ অভিযানের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করেছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রেরও ‘এক্স-৩৭বি’ নামে নিজস্ব মহাকাশযান রয়েছে, যা তৈরি করেছে প্লেন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং। যানটি তার অষ্টম অভিযানে পৃথিবীর কক্ষপথে ৪৩১ দিন সময় কাটিয়েছে। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যানটির সাথে থাকা গ্যালিয়াম আর্সেনাইড সোলার সেল ব্যবহার করে। খাড়াভাবে উড্ডয়ন এবং আনুভূমিকভাবে অবতরণে সক্ষম ২৯ ফুটেরও বেশি লম্বা এই যানটির ডানার বিস্তার প্রায় ১৫ ফুট এবং এটি ঘণ্টায় ২৮,০৪৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ