তুরস্কে ভোট গ্রহণ শেষ, রাতে জানা যাবে গণনার পরিস্থিতি

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিবার। সেখানকার সময় বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এখন চলছে ভোট গণনা। তবে স্থানীয় সময় রাত ৯টার আগে সংবাদমাধ্যমে কোনও তথ্য প্রকাশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা সংক্রান্ত সংবাদ পাওয়া যাবে। তবে সব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলে ফল প্রকাশে  সময়সীমার বাধা তুলে নেওয়া হতে পারে।Turkey-election_(1)

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদককে তুরস্কের একটি ভোটকেন্দ্রের ভোটাররা বলেছেন, তারা একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোট দিতে গিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক রীতির এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পেরে তারা আনন্দিত। নির্বাচনটি তাদের জীবনকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হয়ে দেখা দিতে পারে। ফুলিয়া নামের একজন ভোটার মন্তব্য করেছেন, নিজের হাতে অসীম ক্ষমতা নেওয়ার যে প্রস্তাব গত বছর খুব কম ব্যবধানের গণভোটে এরদোয়ান পাস করিয়ে নিতে পেরেছেন, তিনি তার বিরুদ্ধে। তার ভাষ্য, ‘আমরা সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরত চাই।’

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন সহিংসতায় তুরস্কের এরজুরাম প্রদেশে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী ইয়ি পার্টির প্রধান স্থানীয় প্রধান ও তার সহযোগীরা। দলের পক্ষ থেকে মুস্তাফা গুলডোগান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তুরস্কে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল আগামী নভেম্বরে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান বলেছিলেন, তুরস্কের নেতৃত্বের বিষয়ে নিশ্চয়তা দরকার। দেশটি সিরিয়া ও ইরাকে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করছে। তবে সমালোচকদের ধারণা ভিন্ন। তারা মনে করেন, সিরিয়াতে কুর্দিদের বিরুদ্ধে হামলা করে সদ্য সফলতা অর্জন করায় দেখা দেওয়া জাতীয়তাবাদী আবেগকে পুঁজি করে এরদাওয়ান লম্বা সময়ের জন্য ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে চান। সেজন্যই এই আগাম নির্বাচন দিয়েছেন।

গার্ডিয়ান মন্তব্য করেছে, আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বিপুল ক্ষমতা হাতে পাবেন তার শাসনকালের শুরু থেকেই। গণভোটে যে ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দিয়েছেন তুরস্কের জনগণ তাতে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট উপরাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীসভার পাশাপাশি বিচারক নিয়োগেরও একচ্ছত্র ক্ষমতা পাবেন। স্বাভাবিকভাবেই, এরদোয়ান যদি জিতে যান, তাহলে তিনিই ভবিষ্যৎ তুরস্ককে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।

এবারের নির্বাচনে এরদোয়ানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মস্তফা কামাল আতাতুর্কের দল সিএইচপির প্রার্থী মুহাররেম ইনজে। তার পাশাপাশি আছেন ‘শি উলফ’ নামে খ্যাত নারী প্রার্থী মেরাল আকসেনার। আলোচিত হয়েছেন কুর্দি সমর্থিত দল এইচডিপির প্রার্থী। কারণ তিনি জেলে বন্দি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রথম পর্বের ভোটে কোনও প্রার্থীর পক্ষে ৫১ শতাংশ ভোট নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত দুই জন লড়বেন দ্বিতীয় পর্বে। আর তখন ইনজেকে সমর্থন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে কুর্দিদের দল এইচডিপি।

আরও পড়ুন: মুহাররেম ইনজে কি পারবেন এরদোয়ানের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে?