রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হিট লিস্ট’ তৈরির অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গোয়েন্দা তথ্যের আলোকে মার্কন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর দেশটির নাগরিকদের ‘আটক কিংবা হত্যার’ জন্য এই তালিকা তৈরি করছে মস্কো। সোমবার এ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, টার্গেটকৃত ইউক্রেনীয়দের আটকের পর তাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হতে পারে। এছাড়া গুমের শিকারে পরিণত হতে পারে অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের প্রধানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। এটি লিখেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত বাথশেবা ক্রোকার। অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থার কাছেও চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।
মস্কো অবশ্য ওই চিঠির বিষয়বস্তু প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ নিয়ে কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে চরম মিথ্যাচার ও কল্পকাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, এমন কোনও তালিকা মস্কোর হাতে নেই। বরং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকা ছেড়ে গেছে ৬০ হাজার ‘শরণার্থী’। রুশপন্থী বিদ্রোহীদের স্বঘোষিত ডোনেস্ক এবং লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক ছেড়েছে এসব মানুষ।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ডনবাসের দুইটি অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে রুশপন্থী বিদ্রোহীরা। সেখানে নিজস্ব শাসন ব্যবস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই বিদ্রোহীরা তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার বেসামরিক বাসিন্দাদের রাশিয়ায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ঘোষণা দিয়েছে সেনাসমাবেশের। মস্কোর দাবি, ওই ঘোষণার পর থেকেই লোকজন শরণার্থী হিসেবে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করছে।