রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার একমাত্র সংযোগ সেতুতে হামলার ঘটনায় ‘সন্ত্রাসীদের হত্যা’ করে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে হবে। সোমবার তিনি এই মন্তব্য করেছেন। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এখবর জানিয়েছে।
শনিবার ক্রিমিয়ার কার্চ সেতুতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। রাশিয়ার তদন্ত কমিটি বলেছে, বিস্ফোরক বোঝাই একটি ট্রাক সেতুতে আঘাত করেছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ এই বিস্ফোরণকে ‘অপরাধী কিয়েভ শাসকদের একটি সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইউক্রেন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা অনলাইনে এই হামলার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
মেদভেদেভ বলেছেন, শুধু সরাসরি সন্ত্রাসীদের হত্যা করে এই অপরাধের পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে রাশিয়া। বিশ্বের অন্যত্র এটিই রীতি। রুশ নাগরিকরাও এমনটি চায়।
সোমবার সকালে রাজধানী কিয়েভসহ বেশ কয়েকটি ইউক্রেনীয় শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বেশ কয়েক মাস পর কিয়েভে হামলা চালালো রাশিয়া।
রবিবার রাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কার্চ সেতুতে বিস্ফোরণ একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করার পরদিন এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।
পুতিন বলেছিলেন, কোনও সন্দেহ নেই এটি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এর লক্ষ্য চিল গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাকে ধ্বংস করা। এটির পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নির্দেশ দিয়েছে ইউক্রেনের স্পেশাল সার্ভিস।
পুতিনের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা মিখাইলো পডোলিয়াক বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনছেন পুতিন? মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রুশ যুদ্ধবিমান জাপোরিজ্জিয়াতে বেসামরিক এলাকায় ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এতে ১৩জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। এখানে একটি মাত্র সন্ত্রাসী রাষ্ট্র রয়েছে এবং পুরো বিশ্ব জানে সেই দেশ কোনটি।