ইউক্রেনে অভিযান বন্ধ করতে পুতিনকে ওয়াগনার প্রধানের আহ্বান

রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন ইউক্রেনে চলমান ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ সমাপ্ত করার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনে দখলকৃত ভূখণ্ডগুলোতে দেশের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে মনোযোগ দেওয়া। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার টেলিগ্রামে একটি ব্লগ পোস্টে ওয়াগনার প্রধান লিখেছেন, রুশ কর্তৃপক্ষ ও সামগ্রিকভাবে সমাজের জন্য আজ বিশেষ সামরিক অভিযান বন্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে যে, পরিকল্পনা মতো ফলাফল অর্জন করেছে রাশিয়া। এক হিসেবে আমরা লক্ষ্য অর্জন করেছি।

ওয়াগনার প্রধানের ব্লগ পোস্টটি ইংরেজিতে ভাষান্তর করে প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম প্রাভদা।

ওয়াগনা গ্রুপ ক্রেমলিন সমর্থিত বেসরকারি সামরিক কোম্পানি। এটির নেতৃত্বে রয়েছে পুতিন মিত্র প্রিগোজিন। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণে সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করছে এই বাহিনী। বাখমুতে রুশ আক্রমণের নেতৃত্বে রয়েছে ওয়াগনার যোদ্ধারা।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। পুতিন ও ক্রেমলিন এই আক্রমণকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছেন। তবে পশ্চিমাদের সহযোগিতায় ইউক্রেন দৃঢ় সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ইউক্রেনীয় দৃঢ়তায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি পুরোপুরি। এখনও লড়াই চলমান রয়েছে। শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালায় রুশ বাহিনী। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার শীতাকালীন হামলাও ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ইউক্রেন পুনরায় ইউরোপে বিদ্যুৎ রফতানি শুরু করতে যাচ্ছে।

ওয়াগনার গ্রুপ রাশিয়ার কারাগার থেকে কয়েক হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করেছে। প্রিগোজিন মার্চ মাসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি সাবেক বন্দিকে গত গ্রীষ্মে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ওয়াগনার গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে একটি অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে রাশিয়ার বিভিন্ন কারাগার থেকে ৫০ হাজারের বেশি বন্দিকে যোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ওয়াগনার গ্রুপ।

শুক্রবারের ব্লগে প্রিগোজিন লিখেছেন, আমরা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী বিপুল সংখ্যক সেনাকে হত্যা করেছি। আমরা বলতে পারি আমাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে রাশিয়া ইতোমধ্যে লক্ষ্য অর্জন করেছে ইউক্রেনের সক্রিয় পুরুষদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যাকে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে। আরও বিপুল পুরুষ ভয়ে দেশ ছেড়ে ইউরোপে চলে গেছেন।

প্রিগোজিন আরও লিখেছেন, এখন শুরু একটি বিষয় বাকি: নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা, যেসব ভূখণ্ড ইতোমধ্যে দখল করা হয়েছে সেগুলোতে উপস্থিতি জোরদার করা। কিন্তু এখানে একটি ফাঁক রয়েছে। ইউক্রেন যদি অতীতে রাশিয়ার অংশ হয়েও থাকে এখন তারা একটি জাতীয়মুখী রাষ্ট্র। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির আগে ইউক্রেনকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এখন তারা যুদ্ধে বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে।

ওয়াগনার প্রধান বাখমুতের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। ডনেস্ক অঞ্চলের এই শহরটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। আট মাসের বেশি সময় ধরে রুশ বাহিনী শহরটি দখল করতে পারেনি।