তারা একটি মৃত্যুকূপে গাড়ি চালিয়ে পৌঁছে যায়। সময়টাও উপযুক্ত ছিল না। অনেক সেনা প্রাণ হারিয়েছে। অবশেষে তারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্টারোমায়রোস্ক গ্রামটি পুনরুদ্ধার করে। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ইউক্রেনীয় পাল্টা আক্রমণের সম্মুখভাগে থাকা সেনারা বলছেন, গত সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব রণক্ষত্রে লড়াই ছিল তাদের প্রত্যাশার চেয়ে কঠিন ও রক্তক্ষয়ী। তাদের পরিকল্পনা এলোমেলো হয়েছে এবং শত্রুরা ছিল ভালো প্রস্তুতি নিয়ে।
কল সাইন বুলাট নামের ২৯ বছর বয়সী এক সেনা বলেন, রুশরা আমাদের অপেক্ষা করছিল। তারা ট্যাংক-বিধ্বংসী অস্ত্র ও গ্রেনেড ছুড়ছিল আমাদের লক্ষ্য করে। আমাদের সাঁজোয়া যান একটি পুঁতে রাখা মাইনের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিস্ফোরণের ধাক্কা সহ্য করে নেয় যানটি। আমরা সবাই জীবিত ছিলাম। দ্রুত নেমে পড়ি এবং আড়াল খুঁজতে শুরু করি। কারণ আড়াল খুঁজে পাওয়া হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরপর সেখান থেকে এগিয়ে যাওয়া।
স্টারোমায়োরস্কের লড়াইয়ের বর্ণনা ইঙ্গিত দিচ্ছে কেন ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তৃতীয় মাসের গড়িয়েছে এই অভিযান। প্রত্যাশার চেয়ে গতি মন্থর ও বেশি রক্তপাত হচ্ছে।
বুলাট বলেন, আমাদের অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল দুই দিনের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু আমরা অন্ধকারে সঠিক সময়ে গাড়ি চালাতে পারিনি কয়েকটি কারণে। ফলে আমরা পরে গাড়ি চালাই এবং সঠিক সময়ে আঘাতে ব্যর্থ হই।
রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের পাল্টা আক্রমণের জন্য পশ্চিমাদের কাছ থেকে কয়েক শ’ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ পেয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। কিয়েভ স্বীকার করেছে, প্রত্যাশার চেয়ে তাদের অগ্রগতি মন্থর। কমান্ডাররা বলছেন, হতাহত এড়াতে পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে অগ্রগতি কম হচ্ছে।
রাশিয়া দখলকৃত ভূখণ্ডে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে কয়েক মাস সময় পেয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মাইনও পুঁতে রেখেছে তারা। ইউক্রেনীয়রা এমন অভিযানের ক্ষেত্রে বিমানবাহিনীর পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না। ন্যাটোর মহড়ায় সাধারণত বিমান হামলার সহযোগিতা থাকে।
ডাব কল সাইনের ২৪ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা বলছেন, রুশরা প্রাক-দৃশ্যমান অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে যাতে করে হামলা সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে সড়ক ধ্বংস করেছে। তারা গর্ত তৈরি করেছে যাতে গাড়ি চালানো না যায়। এমনকি শুষ্ক আবহাওয়ায় গ্রামের প্রবেশ ও বের হওয়া কঠিন। হেঁটে চলাফেরা করাও মুশকিল। রাতে ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করা যায় না, কিন্তু এরপরও আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।
পিকাচু কলসাইনের আরেক সেনা বলেছেন, আমাদের ইউনিট সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং আমরা সফল হয়েছি। আমরা ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে এগিয়েছি। তারা গুলি করছিল, সবকিছু উড়ছিল। আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ছিল। কিন্তু আমরা এগিয়ে গেছি। কেউ পেছনে পড়ে থাকেনি। সবাই মিলে দারুণ কাজ করেছি। আমাদের সঙ্গে থাকা অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারবে না।
সূত্র: রয়টার্স