ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বার্লিনে যাচ্ছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ইউরোপীয় নেতাদের ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিতে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের শীর্ষ বৈঠকের আগে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার জার্মানি ও ইউক্রেন উভয় সরকারই জেলেনস্কির সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় কিয়েভ ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা যেন প্রভাব বজায় রাখতে পারে, এ লক্ষ্যেই এই কূটনৈতিক উদ্যোগ।
জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস জানিয়েছেন, আলোচনার প্রথম ধাপে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এরপর ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলবেন নেতারা। দিন শেষে ইউক্রেনপন্থি পশ্চিমা দেশগুলোর কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মের্ৎস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে সাহায্য করবে জার্মানি। এসব অস্ত্র ব্যবহারে পশ্চিমা আরোপিত সীমাবদ্ধতা মেনে চলতে হবে না।
ইউরোপীয় দেশগুলো বলেছে, যে কোনও শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নইলে তা মস্কোর জন্য লাভজনক হবে। সোমবার ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় জেলেনস্কিকে যুক্ত করার বিষয়ে এখনই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না তিনি। তবে পরে তিন পক্ষের বৈঠক হতে পারে।
কিয়েভ ও ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, তাদের বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার কোনও চুক্তি হলে মস্কোর দখল করা ডনেস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন অঞ্চলের দখল বৈধতা পাবে।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ট্রাম্প ও পুতিন সব ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলেক্সেই ফাদেয়েভ বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুরোধকৃত আলোচনা ছিল তুচ্ছ। তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুনে ঘোষিত পুতিনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। ওই সময় পুতিন চার দখলকৃত অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি করেছিলেন।
এদিকে, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে ১৬৫টি সংঘর্ষ হয়েছে। সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে পোকরোভস্ক, নোভোপাভলিভকা ও লিমান অঞ্চলে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইউক্রেন ক্রমেই আরও এলাকা হারাচ্ছে। বিলোজেরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইউক্রেনীয় যুদ্ধক্ষেত্র মনিটরিং গ্রুপ ডিপস্টেটের তথ্যমতে, রুশ বাহিনী নিকানোড়িভকা, শ্চের্বিনিভকা ও পেত্রিভকার কাছে অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইউক্রেনীয় জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, পোকরোভস্কে কঠিন লড়াই চলছে। ডনেস্কের এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্র হারালে ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে কিয়েভের অবস্থান আরও কঠিন হবে।