আলাস্কার অ্যাঙ্কোরেজে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ইউক্রেন যুদ্ধে অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সত্যিকারের প্রচেষ্টা’র প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির বিষয়টিও আসতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, আমার মতে যুক্তরাষ্ট্র শত্রুতা বন্ধ করা, সংকট থামানো এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থে সমঝোতায় পৌঁছাতে যথেষ্ট সক্রিয় ও আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদি আমরা কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে চুক্তি করতে পারি তাহলে এর মাধ্যমে আমাদের দুই দেশের মধ্যে, ইউরোপে এবং বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির শর্ত তৈরি হতে পারে।
এটি হবে ২০২১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার প্রথম শীর্ষ বৈঠক। পূর্ব ইউরোপের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, পুতিন ইউক্রেন ইস্যু থেকে ট্রাম্পের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারমাণবিক চুক্তি বা অর্থনৈতিক প্রস্তাবের মতো বিষয় সামনে আনতে পারেন। তার মতে, রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্য নতুন নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও পুরনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, আর শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের পুরো ভূখণ্ড দখল করা।
ইউক্রেন ও তার মিত্ররা বলছে, ট্রাম্প কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব বিবেচনা করছেন। বুধবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এবং বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ বিষয়টি আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে হত্যা বন্ধ করতে এবং আন্তরিক আলোচনায় বসাতে চাপ দিতে পারে, তবে এই নিশ্চয়তাগুলো স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানান, ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় ন্যাটো থাকবে না। এটি রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইচ্ছুক মিত্ররা এতে থাকতে পারে। এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেন, মার্চে কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং-এ আলোচনার পর প্রথম ট্রাম্প এতটা স্পষ্টভাবে ইউরোপের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিলেন।
রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরুর পর যুদ্ধ ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে ডনেস্ক অঞ্চলের দোব্রোপিলিয়া শহরের কাছে রুশ সেনারা প্রায় ৯-১০ কিলোমিটার অগ্রসর হয়েছে। সেনা সংকটে পড়ে ইউক্রেন রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েন করেছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, একটি সমঝোতায় ভূখণ্ড বিনিময় হতে পারে। এতে করে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের ওপর মস্কোর নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, এতে পুতিন পুরস্কৃত হবেন এবং ইউরোপের পশ্চিম দিকে আগ্রাসনের সাহস পেয়ে যাবেন।
ক্রেমলিনের এক সহকারী জানান, বৈঠকে পুতিন ও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কের অব্যবহৃত বিশাল সম্ভাবনা এবং যুদ্ধ শেষ করার পথ নিয়ে আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই বুধবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বৈঠকে সমঝোতা না হলে রাশিয়াকে গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এর মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও থাকতে পারে।