ইউক্রেনকে ১৫ বছরের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রস্তাব ট্রাম্পের

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে একটি সংশোধিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফ্লোরিডার মার--লাগো রিসোর্টে রবিবারের ওই বৈঠকে ইউক্রেনকে ১৫ বছরের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই পয়েন্টে দুই পক্ষ একটি চুক্তির ‘৯৫ শতাংশের’ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে জেলেনস্কি এই মেয়াদ ৫০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম  বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠক শেষে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি চুক্তির সামগ্রিক কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি বলেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া এই যুদ্ধকে সত্যিই শেষ হয়েছে বলে গণ্য করা যায় না। রাশিয়ার মতো প্রতিবেশীর উপস্থিতিতে পুনরায় আগ্রাসনের ঝুঁকি থেকেই যায়।

জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তি সই হওয়ার মুহূর্ত থেকেই এই গ্যারান্টি কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই মেয়াদের ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত মন্তব্য না করলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় মিত্রদের বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।

শান্তি পরিকল্পনায় এখনও দুটি প্রধান ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে—ভূখণ্ডগত বিরোধ এবং রুশ নিয়ন্ত্রিত জাপোরিজ্জিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে ডনবাস অঞ্চল (ডনেস্ক ও লুহানস্ক) নিয়ে জটিলতা কাটছে না। বর্তমানে ডনেস্কের ৭৫ শতাংশ এবং লুহানস্কের ৯৯ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডনবাস নিয়ে আলোচনা এখনও অমীমাংসিত, তবে তা সমাধানের ‘অনেক কাছাকাছি’ পৌঁছেছে।

ক্রেমলিন সোমবার জানিয়েছে, শান্তি চাইলে কিয়েভকে ডনবাসের অবশিষ্ট অংশ থেকেও সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে জেলেনস্কি প্রস্তাব দিয়েছেন, ওই এলাকাটি ইউক্রেনীয় বাহিনীর অধীনে একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হতে পারে।

জেলেনস্কি চান শান্তি পরিকল্পনাটি ইউক্রেনের জনগণের কাছে গণভোটের জন্য পেশ করতে, যার জন্য ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে। ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের এক ফোনালাপের বরাতে রাশিয়ার সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও পুতিন উভয়েই মনে করেন, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কেবল সংঘাতকেই দীর্ঘায়িত করবে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে, গণভোট আয়োজনের সুযোগ দেবে এমন কোনও যুদ্ধবিরতিতে মস্কোর আগ্রহ নেই।

শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউজে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দল ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ফ্লোরিডার আলোচনাকে ‘ভালো অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা গ্যারান্টি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী মাসে প্যারিসে বৈঠক করবেন মিত্ররা।

এদিকে আলোচনার মধ্যেই যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভ জানিয়েছে, রবিবার রাতে রাশিয়া ২৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের পাঠানো ৮৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।