ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডজুড়ে শনিবার হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান ও ঐক্যের আহ্বান জানান। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ডেনমার্কে বসবাসরত গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সংগঠন উগাটের চেয়ারম্যান জুলি রাডেমাখার বলেন, “আমরা বিশ্বকে একটি বার্তা দিতে চাই, আপনাদের এখনই রুখে দাঁড়াবার সময়।” তিনি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণ অনিচ্ছাকৃতভাবেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের লড়াইয়ের সামনের সারিতে চলে এসেছে।”
কোপেনহেগেন, আরহুস, আলবর্গ, ওডেন্সে এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় নামেন। ইউরোপের যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পরই এসব বিক্ষোভ শুরু হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে, যদি গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হয়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড, উভয় সরকারই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যাওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে, আর মাত্র ৬ শতাংশ এই প্রস্তাবের পক্ষে। একই সময়ে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো মেরু অঞ্চলে সামরিক মহড়া জোরদার করতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করা। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই।
ডেনমার্কের অধীনে স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট মোকাবিলায় কূটনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দিচ্ছে কোপেনহেগেন ও নুক। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় একসঙ্গে অবস্থান নেওয়াকেই তারা সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখছে।