যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কী পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়ে বাজার পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনার মধ্যে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে গত এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইউরোর বিপরীতেও পাউন্ডের দাম গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
শুক্রবার ডলারের বিপরীতে স্টার্লিংয়ের (পাউন্ড) মূল্য বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৫ ডলারে পৌঁছায়, যা গত ১৫ জুনের পর সর্বোচ্চ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী পাউন্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর দাম কমে ৮৫ দশমিক ১৮ পেন্সে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের জুনের শেষ ভাগের পর পাউন্ডের বিপরীতে ইউরোর সর্বনিম্ন দর। তবে পরবর্তীতে এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিয়ে ইউরোর লেনদেন স্থিতিশীল হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাউন্ডের এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিদেশি কোম্পানিগুলোর যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান কিনে নেওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমন এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিমালার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
মোনেক্স ইউরোপের সিনিয়র এফএক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট ব্যারি ভ্যান ডার ল্যান বলেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিউ পিল বৃহস্পতিবার রাতে সুদের হার বাড়াতে হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা শুক্রবার পাউন্ডের দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
ভ্যান ডার ল্যান আরও বলেন, এই বার্তাটি বাজারের সেই ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করেছে যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ বা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) তুলনায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে মূল্যস্ফীতি উপেক্ষা করার সুযোগ কম।
তবে তিনি বলেছেন, আজ যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কোনও অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশ না হওয়ায়, পাউন্ডের গতি-প্রকৃতি মূলত ডলারের সার্বিক ওঠানামা, তেলের দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের খবরের ওপর নির্ভর করবে।
চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে এবং ২০২৬ সালে ১ শতাংশ সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি এবং পরবর্তীতে তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছিল।
আইএমএফ জানিয়েছে, চলতি বছর জি-৭-ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রিটেন তৃতীয় দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি হতে যাচ্ছে, যা ইউরোজোনের দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে।
তবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং ইরানের তেল বাণিজ্যের ওপর দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মওকুফের সুবিধা বাতিলের কারণে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। অপরিশোধিত তেল সর্বশেষ ব্যারেল-প্রতি প্রায় ৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল, যা গত এপ্রিলের সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারের চেয়ে এখনও অনেকটাই কম।
এদিকে লেবার পার্টির সিংহভাগ সংসদ সদস্যের সমর্থন পেয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে গেছেন। কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, পরবর্তী নেতার বিষয়ে স্পষ্টতা এবং বার্নহামের আর্থিক নিয়মনীতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পাউন্ডের দাম কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করেছে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বার্নহাম যখন তার অর্থনৈতিক নীতিগুলোর রূপরেখা প্রকাশ শুরু করবেন, তখন যুক্তরাজ্যের বাজার আরও কিছুটা অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স