রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের সাড়ে চার বছর পর ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ক্ষমতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন দেশটির বরখাস্ত হওয়া জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ।
মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ফেদোরভ বলেন, গণতন্ত্রকে রাশিয়ার কাছে জিম্মি করে রাখা যায় না।
ইউক্রেন একটি স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকার জন্যই লড়াই করছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি সেনাবাহিনীকে অস্ত্র ও সরঞ্জাম থেকে বঞ্চিত করছে এবং দেশ এক পদ্ধতিগত শাসন সংকটে পড়েছে।
ব্যক্তিগত আনুগত্যের চেয়ে পেশাদারিত্ব ও সংস্কারের সক্ষমতাকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তির চেয়ে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।
ফেদোরভের পদচ্যুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার পুনর্বহালের দাবিতে পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে যুদ্ধ চলাকালে তার নির্বাচনের দাবিকে অবাস্তব ও বিপজ্জনক বলে মনে করছেন অনেকে। জেলেনস্কির কার্যালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, মিসাইল ও ড্রোনের আঘাতের মধ্যে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা অত্যন্ত অদ্ভুত ও বাস্তবতাহীন।
জেলেনস্কির সমর্থক এমপি ওলেকসান্দর মেরেজকো জানান, ফেদোরভকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলেও এই সময়ে নির্বাচনের আহ্বান অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তা পুতিনের হাতকেই শক্তিশালী করবে।
এমনকি ফেদোরভের সমর্থক বিক্ষোভকারীদের অনেকেই যুদ্ধ চলাকালীন নির্বাচনকে সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করছেন না। ২২ বছরের বিক্ষোভকারী মায়া জানান, যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন ভালো ধারণা নয়, তবে যুদ্ধ শেষে তিনি নতুন প্রেসিডেন্ট দেখতে চান।
অন্যদিকে বিরোধী দলের এমপি ভলোদিমির আরিয়েভ জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, আমরা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছি যেখানে নির্বাচন আর বিশৃঙ্খলার মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর জারি করা সামরিক আইনের কারণে ইউক্রেনে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। যদিও ২০২৪ সালের মে মাসে জেলেনস্কির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন অভিযোগ করেছিলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে, তখন জেলেনস্কি বলেছিলেন যে সহযোগীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তারা ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।
সূত্র: বিবিসি