বিশ্বের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসের যৌথভাবে উষ্ণতম মাস হিসেবে রেকর্ড গড়েছে বিদায়ী আগস্ট। শিল্পযুগের আগের তুলনায় গ্রহের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ২.৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সিথ্রিএস)।
গত মাসে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নেপাল এবং চীনের তিব্বতে শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটানো ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে, যদিও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে শুরু করে গ্রিস ও বেলজিয়ামে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে এবং হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ায় দেখা দেয় তীব্র খরা।
শিল্পযুগের আগের সময়ের তুলনায় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ জলবায়ুর সবচেয়ে খারাপ পরিণতি এড়াতে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অধীনে প্রায় ২০০টি দেশ এই তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম কোনও মাসে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করল।
সিথ্রিএস জানিয়েছে, গত মাসে বিশ্বব্যাপী ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৩ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর উষ্ণতম মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি ১৯ শতকের বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে নির্গত গ্যাসই জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের কৌশলগত প্রধান সামান্থা বার্জেস বলেন, আমরা ইউরোপজুড়ে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছি। তীব্র গরমে রাস্তাঘাট গলে যাচ্ছে, রেললাইন বাঁকা হয়ে যাচ্ছে, স্কুল বন্ধ রয়েছে এবং হাসপাতালগুলো চরম চাপের মুখে পড়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম ইউরোপ তার ইতিহাসের উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল পার করেছে। নদীর পানি প্রবাহ কমে যাওয়া এবং আর্দ্রতা হ্রাসে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স