জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পাবলিক সার্ভিস বা জনসেবার মান অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সে আয়োজিত তৃতীয় দফার গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিস, মার্শেইসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশজুড়ে আয়োজিত এসব বিক্ষোভ থেকে এ পর্যন্ত ৫৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার অনুষ্ঠিত বিক্ষোভগুলোতে দেশজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন, যা গত সপ্তাহান্তের, অর্থাৎ ৪ লাখ ১০ হাজারের তুলনায় কিছুটা কম। কেবল প্যারিসেই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বুলেভার্ড এলাকায় আনুমানিক ৭০ হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন। হ্যালোউইনের পোশাক পরিহিত অনেক বিক্ষোভকারী এতে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, দেশজুড়ে প্রায় ১৫০টি নির্ধারিত বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও, সমাবেশের শেষ দিকে, অর্থাৎ সন্ধ্যা নামতেই কিছু দাঙ্গাকারীর তীব্র সহিংসতার মুখে পড়ে পুলিশ।
প্যারিসে বিক্ষোভের সময় এক দাঙ্গা পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে ককটেল বা মলোটভ ককটেল ছোড়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘হত্যার চেষ্টা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্যারিসে চারজন পুলিশ সদস্য এবং একজন সামরিক পুলিশ আহত হয়েছেন। সংঘাত এড়াতে আগে থেকেই ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এলিট ইউনিটসহ ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমে মোতায়েন করেছিল।
প্যারিসের পোর্ট ডি বাগনোলেট এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে যাত্রা শুরু করেন। তাদের হাতে ‘আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করতে টিয়ারগ্যাসের প্রয়োজন নেই’ এবং ‘হ্যালোউইনের জন্য ক্ষুব্ধ নাগরিকের ছদ্মবেশে’ লেখা ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ছিল। তবে মিছিলের গন্তব্য পোর্ট ডি শ্যারেটন এলাকায় পৌঁছালে কালো পোশাক ও ফেস মাস্ক পরা ডজন ডজন বিক্ষোভকারী হাতুড়ি দিয়ে ফুটপাতের পাথর উপড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন। এ সময় অন্তত একটি অগ্নিসংযোগকারী যন্ত্রও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকশত দাঙ্গাকারীর একটি উগ্র দল পুলিশকে লক্ষ্য করে বস্তু ছুড়লে পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া লিঁও শহরে পুলিশকে লক্ষ্য করে বস্তু ছুড়লে টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করা হয়। তুলুজে অনুমতি ছাড়া আয়োজিত কয়েক হাজার তরুণের মিছিলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।
প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জেরোম রদ্রিগেজ নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশ এমন একদল অপদার্থের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যারা শত শত কোটি ইউরো নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, অথচ সাধারণ পরিবারগুলো সামান্য কয়েক সেন্টের জন্য সংগ্রাম করছে। সেজন্যই আমরা এখানে আমাদের দাবি উচ্চস্বরে জানাতে এসেছি’।
নঁতে শহরের বিক্ষোভকারী ক্যামিল গুয়েরাঁ বলেন, ‘আমরা জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে, উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে। আমরা স্কুলশিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে এবং নাগরিকদের কথা বলার অধিকারের পক্ষে’।
শিক্ষার্থী সংগঠন ‘ইউনিয়ন এতুদিয়ান্তে’-এর সাবরিন খারবাচ জানান, মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার তারা নতুন করে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। পরবর্তীতে তারা আগামী ৫ নভেম্বরের শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়নের মিছিলে যোগ দেবেন।