মুসলিম অভিবাসীদের সচেতন করতে জার্মানিতে যৌনশিক্ষার উদ্যোগ

nonameজার্মানিতে গত বছর কয়েক লাখ অভিবাসী, শরণার্থী ও রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ভিড় করেছেন। যাদের বেশিরভাগই হচ্ছে ইসলাম ধর্মালম্বী। এসব অভিবাসন প্রত্যাশীদের জার্মান ভাষা ও কাজের সুযোগ করে দিতে জার্মান সরকার কাজ করছে। তবে প্রকাশ্য প্রেমের সৃজনশীলতায় বিশ্বাসী এমন একটি দেশে এসব অভিবাসী মুসলমান পড়েছেন বিব্রতকর অবস্থায়। ফলে ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি মুসলমান অভিবাসীদের যৌনতা বিষয়ে সচেতন করতে যৌনশিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি।

প্রাথমিকভাবে সিরিয়া, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম শরণার্থীদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্মানির রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা কেন্দ্র ১ লাখ ৩৬ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মূলত প্রাপ্ত বয়স্ক অভিবাসীদের জন্য যৌন শিক্ষার একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ শিক্ষাদান শুরু হয়েছে। উচ্চমানের গ্রাফিক্স ও ছবি ব্যবহার করে জীবনে প্রথমবার যৌন সম্পর্ক থেকে শুরু করে আধুনিক যৌনাচারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: বিশ্বের রোমান্টিক শহরের তালিকায় কাশ্মির দ্বিতীয়

এ উদ্যোগ নেওয়া হয় চলতি বছর ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অভিবাসীদের কর্তৃক যৌন হয়রানির ঘটনার পর। বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে কয়েকশ জার্মান নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। এর পর অভিবাসী, বিশেষত পুরুষ অভিবাসীদের পশ্চিমা যৌনাচার সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মিউনিখে বিভিন্ন পাবলিক স্পেসে বিভিন্ন কার্টুন টাঙানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে বিকিনি পরা নারীদের হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা না করতে। বাভারিয়াতে অভিবাসীদের যৌন শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিভাবে জার্মান নারীদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করা যাবে।

তবে এসব কিছু ছাপিয়ে গেছে সরকারি ওয়েবসাইট চালুর ফলে। ওয়েবসাইটটিতে অবিবাহিত অভিবাসী (বিবাহিতও) যৌনতার আনন্দের জন্য সম্পূর্ণ দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 noname

কথাটা শুনতে মজা লাগলেও বিষয়টি জার্মান সরকার খুব গুরুত্ব সহকারে  নিয়েছে। ওয়েবসাইটে পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কিভাবে যৌন সম্পর্কের সময় রোগ সংক্রমণ এড়ানো যায়, সেসব তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, কেন অভিবাসীদের লেসবিয়ান বা সমকামীদের সম্মান করা উচিত।

যৌন সম্পর্কের ব্যাপক খুঁটিনাটি তুলে ধরার ফলে সরকারিভাবে এমন ওয়েবসাইট চালু করাতে অনেকে বিষয়টির সমালোচনাও করছেন। জার্মানির এক ফ্রিল্যান্স শিল্পী টুইটে বলেছেন, আমাদের অর্থ দিয়ে এসব কী হচ্ছে? তবে সমালোচনা থাকলেও বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের জার্মানির সংস্কৃতিকে সম্মান ও মেনে নেওয়া উচিত অভিবাসীদের।

আরও পড়ুন: নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল আইএস!

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের শেষ প্রহরে সারা জার্মানি যখন নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আনন্দে মাতোয়ারা, তখন কোলনসহ হামবুর্গ এবং স্টুটগার্ট শহরে ব্যাপক যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতন চালানো হয় নারীদের ওপর। সবচেয়ে বড় চক্রটি সক্রিয় ছিল কোলনে। শহরের কেন্দ্রীয় রেল স্টেশনকে ঘিরে সেদিন সহস্রাধিক পুরুষ রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়েন নারীদের ওপর। এছাড়াও ছিনতাই এবং লুটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় জার্মানির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে। কোলনের তৎকালীন পুলিশ প্রধান উলফগ্যাং আলবেসকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পদচ্যুত করা হয়। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট।

/এএ/